kalerkantho


বাঁচতে হলে মারতে হবে ‘পানিখেকো’ গাছ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে পানিসংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে পানিখেকো পিপাসু প্রজাতির বৃক্ষ যেমন—পাইন, একাশিয়া ও ইউক্যালিপটাসের মূলোৎপাটন করার কথা বলছেন গবেষকরা। এসংক্রান্ত নিবন্ধ গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে।

শহরটিতে দৈনন্দিন কাজে পানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। এর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। অবশ্য বৃষ্টির পানিতে আগের চেয়ে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখন মারাত্মক হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে খরা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ন্যাচার কনজারভ্যান্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানিসংকট মোকাবেলায় লবণাক্ত পানি পরিশোধন করার মতো প্রকল্প বেশ ব্যয়বহুল। এর চেয়ে ওই অঞ্চলের পানিপিপাসু গাছগুলোকে অপসারণ করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধন, ভূগর্ভস্থ পানি সরবরাহের মতো প্রকল্পে প্রতি লিটার পানিতে যে অর্থ ব্যয় হয়, তা পানিপিপাসু বৃক্ষ অপসারণের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। ওই অঞ্চলের সাতটি এলাকায় এসব গাছ আছে, যেখান থেকে কেপটাউনের তিন-চতুর্থাংশ পানি সরবরাহ হয়ে থাকে। এই ক্ষতিকর গাছগুলো অপসারণে ৩০ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পে আড়াই কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এর মাধ্যমে শহরটিতে বছরে দুই মাসের পানি সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ এবং পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর জন্মানোর কারণে এই ক্ষতিকর গাছগুলোর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এগুলো স্থানীয় ‘ফিনবস’ উদ্ভিদের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে পানি শোষণ করে থাকে। এরা যেমন প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি শোষণ করে, তেমনি বৃষ্টিপাতে বাধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে মাটি অধিক শুষ্ক হতে থাকে। মরতে থাকে নদী ও জলাধার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাচার কনজারভ্যান্সি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, পানিপিপাসু বৃক্ষ অপসারণ করা গেলে ছয় বছরের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন লিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে।

কেপটাউনের ডেপুটি মেয়র আয়ান নিলসন বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করতে হবে। এর একটি হতে পারে, ক্ষতিকর গাছগুলো অপসারণ করা, যেগুলো জলাধারে পানি সরবরাহে বিঘ্নতা ঘটায়।’ বৃষ্টির পরে কেপটাউনের জলাধারগুলোর ৭০ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু শহর কর্তৃপক্ষ খরার শঙ্কায় নগরবাসীকে সীমিতহারে পানি ব্যবহার করে যেতে বলেছে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য