kalerkantho


শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক সংকট আরো তীব্র

পার্লামেন্টে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পার্লামেন্টে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা

শ্রীলঙ্কার পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের পক্ষে গতকাল পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালে সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকে। ছবি : এএফপি

শ্রীলঙ্কায় বিতর্কিতভাবে নিয়োগ দেওয়া প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে পার্লামেন্ট। এর ফলে দেশটির চলমান সাংবিধানিক সংকট আরো ঘনীভূত হলো। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পার্লামেন্ট পুনর্বহাল হওয়ার এক দিন পর গতকাল বুধবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিদের ভোটে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গত ২৬ অক্টোবর রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষেকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলে সংকটের শুরু হয়। এ সিদ্ধান্তকে অবৈধ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তে অস্বীকার করেন বিক্রমাসিংহে। এরপর প্রেসিডেন্ট গত শুক্রবার পার্লামেন্টও বিলুপ্ত করে দেন এবং ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঘোষণা ঘোষণা করেন। কিন্তু বিক্রমাসিংহের দল ও তার মিত্ররা এ আদেশ সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করলে মঙ্গলবার আদালত পার্লামেন্ট পুনর্বহালে আদেশ ও জানুয়ারিতে নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

গতকাল পার্লামেন্টের অধিবেশনে ঝটিকাপূর্ণ দৃশ্যের অবতারণ হয়। পার্লামেন্টে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলে ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিরা প্রস্তাবটিতে সমর্থন দেন। অধিবেশনে গত ৯ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার ঘোষণাকে (পার্লামেন্ট বিলুপ্তি) অবৈধ আখ্যায়িত করে পার্লামেন্ট পৃথক একটি প্রস্তাব পাস করে।

তবে এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে রনিল বিক্রমাসিংহে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাংবিধানিক অচলাবস্থায় উতরে গেছেন। অর্থাৎ রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল হতে পারছেন না। তবে এর মাধ্যমে সাংবিধানিক শক্তি প্রদর্শনে তিনি জয়ী হয়েছেন। বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (উইএনপি) পার্লামেন্টে বৃহত্তম দল হলেও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার হাতেই রয়েছে।

তবে ইউএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন সিরিসেনাকে অবশ্যই বিক্রমাসিংহের প্রতি নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে হবে। দলটির উপনেতা সাজিথ প্রেমাদাশা বলেন, ‘আমার কাছে, তিনি (বিক্রমাসিংহে) এখনো প্রধানমন্ত্রী। আজ গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’

অচলাবস্থা শুরুর পর গতকাল প্রথমবারের মতো বিক্রমাসিংহে পার্লামেন্ট অধিবেশনের যোগদান  উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন টেম্পল ট্রির আস্তানা থেকে বের হন। পার্লামেন্টে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই বিজয় জনগণের। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্টের আদেশ অবৈধ বলে নিন্দা জানান। তিনি বলেন, রাজাপক্ষের নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো আদেশ এখন সরকারের কর্মকর্তাদের মেনে চলা উচিত না।

গতকাল বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য রাজাপক্ষে (৭২) ও তাঁর এমপিপুত্র নামাল রাজাপক্ষে পার্লামেন্টের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। এর অল্প কিছু পরেই ভোটের আহ্বান জানান স্পিকার। কিন্তু রাজাপক্ষের অনুগত এমপিরা পার্লামেন্টের প্রতীক দণ্ড ধরে ভোটাভুটিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্পিকার ভোটাভুটির কাজ চালিয়ে যান। এর মধ্যেই তিনি বলেন, ‘আমি রুল দিচ্ছি যে এই হাউসের এই সরকারের (রাজাপক্ষে) প্রতি আস্থা নেই।’

ওই সময় রাজাপক্ষের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন মন্ত্রী পার্লামেন্ট কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্পিকার পার্লামেন্টের শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন। সেখানে সংসদ নেতা দীনেশ গুণাবর্ধনে সাংবাদিকদের বলেন, এই ভোট আয়োজনের স্পিকারের অধিকার নেই।

প্রসঙ্গ, শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুসারে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত করতে পারেন না। আবার পার্লামেন্টে ভোট হলে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো প্রায় অসম্ভব। কারণ প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) ও রাজাপক্ষের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির মিলিত আসনের সংখ্যা ৯৫ এবং বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির আসনসংখ্যা ১০৬। আর তাদের মিত্র সমর্থন জানানো তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের রয়েছে ১৬টি আসন। ফলে সাংবিধানিক শক্তিকে এগিয়ে বিক্রমাসিংহে।

সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য