kalerkantho


যোগীর মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

এলাহাবাদের নাম বদলে ‘প্রয়াগরাজ’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



এলাহাবাদের নাম বদলে ‘প্রয়াগরাজ’

কথা চলছিল কয়েক দিন ধরেই। অবশেষে মঙ্গলবার সরকারিভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর এলাহাবাদের নাম বদলে ‘প্রয়াগরাজ’ রাখার সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই নাম বদলের প্রস্তাব পাস করানো হয়েছে। দেশটিতে আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ওই নির্বাচন এবং জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় অর্ধ কুম্ভমেলার আগে এলাহাবাদের মুসলিম নাম বদলের এই সিদ্ধান্ত নিছকই গেরুয়া রাজনীতি বলে সমালোচনা করছে বিরোধীরা। যোগী সরকার যেভাবে তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দেখে বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটের আগে হিন্দু আবেগ উসকে দিতেই এটা করেছে উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। একই সঙ্গে ভোটের অঙ্কে রাম মন্দির নিয়ে হাওয়া তুলে দিতে চাইছে তারা।

একই সঙ্গে বদলে যাবে এলাহাবাদ রেলস্টেশনেরও নাম। এর আগে বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশ সরকার গত ৫ জুন রাজ্যের ঐতিহাসিক রেলস্টেশন মোগলসরাইয়ের নাম বদলে রাখে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়নগর জংশন। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ছিলেন ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ভারতীয় জনসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

গঙ্গা-যমুনা এবং সরস্বতী—এই তিন নদীর সঙ্গম প্রয়াগে। প্রাচীন যুগ থেকেই ওই এলাকাকে প্রয়াগ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মোগল আমলে আকবর শহরের নাম করেন এলাহাবাদ বা আল্লার হাতে গডা শহর। প্রয়াগ নামটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল স্থানীয় হিন্দুদের একাংশ। যোগী আদিত্যনাথের কথায়, ‘এ বছর এলাহাবাদে শাহি স্নানের দিনক্ষণ ঘোষণার সময়ে অখিল ভারতীয় আখাড়া পরিষদ ওই নাম পরিবর্তনের জন্য আবেদন জানায়।’ স্থানীয় সঙ্ঘ নেতারাও দীর্ঘদিন ধরে ওই নাম বদলের দাবি তুলছিলেন।

নাম বদলের বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দলীয় স্তরে আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গত শনিবার স্থানীয় সন্ত শিবিরে গিয়ে তাদের আশ্বাসও দিয়ে আসেন আদিত্যনাথ। মঙ্গলবার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় আলোচনার জন্য উঠলে তাতে দ্রুত ছাড়পত্র দেয় সরকার। যোগী প্রশাসনের ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সঙ্ঘ পরিবারসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।

এ ব্যাপারে কংগ্রেস নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, ‘ভোটের কথা মাথায় রেখে জেনে-বুঝেই হিন্দুত্বের তাস খেলতে চেয়েছে সরকার। কারণ সরকার বুঝতে পারছে, তারা কাজের মাধ্যমে জিততে পারবে না। তাই হিন্দুত্বই এখন ভরসা বিজেপির।’ একই সুরে সপা নেতা অনুরাগ ভাদোরিয়া বলেন, ‘সরকারের উচিত হলো, জনগণের জন্য কাজ করা। কাজ করলে নাম এমনিতেই হবে। তখন আলাদা করে নাম বদলের খেলায় নামতে হবে না।’ বিরোধীদের বক্তব্য, যোগীর আমলে রাজ্যে অপরাধ বেড়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতরে হার লাফিয়ে বেড়েছে। এমনকি শিশুমৃত্যুর ঘটনাও আখছাড় ঘটছে। এই অবস্থায় নাম বদলের নাটক করে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। এই সমালোচনার জবাবে বিজেপি নেতা তথা যোগী সরকারের মন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন, ‘যারা নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তারা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।’

তবে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিলেই যে তত্ক্ষণাৎ নাম পরিবর্তন হবে, তা নয়। বিষয়টি নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের ওপরে। সাধারণত রাজ্য সরকারের মাধ্যমে কোনো গ্রাম, শহর বা রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তনের আবেদন প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে যায়। এরপর কেন্দ্র নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা, পরিবর্তন করা হলে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগ, ডাক বিভাগ, টেলিকম মন্ত্রণালয়, সার্ভে অব ইন্ডিয়া ও রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে। যদি সব পক্ষ নাম পরিবর্তনে সায় দেয়, তাহলে সেই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যকে। তবে এ ক্ষেত্রে যেহেতু কেন্দ্র ও রাজ্য দুই জায়গাতেই বিজেপি সরকার রয়েছে, তাই দ্রুত নাম পরিবর্তন হয়ে যাবে বলেই মনে করছে যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসন। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 



মন্তব্য