kalerkantho


সিবিএস ‘সিক্সটি মিনিটসে’ ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য ৯

বহু সমালোচক হত্যার পেছনে পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বহু সমালোচক হত্যার পেছনে পুতিন

ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিবিএসকে ৬০ মিনিটের দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। গত রবিবার রাতে সম্প্রচারিত ‘সিক্সটি মিনিটস’ নামে পরিচিত এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া থেকে শুরু করে নিজ দেশে সম্প্রতি বিচারপতি নিয়োগও হোয়াইট হাউস পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। এর মধ্যে সিএনএন ৯টি চুম্বক অংশ তুলে ধরেছে।

প্রথমত : সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বলা হয়েছিল যে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচনায় খুবই ধূর্ততার পরিচয় দেন। তত্ক্ষণাৎ তিনি এই প্রশ্নটিকে চ্যালেঞ্জ করে বসেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ব্যক্তিগতভাবে আমি তাঁর ব্যাপারে খুবই কঠিন।’ মস্কো সরকারের বহু সমালোচককে হত্যার পেছনে পুতিনের হাত আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত। তবে এসব ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি।’ এর পরই আবার ট্রাম্প বলেন, ‘এটা করা তাদের উচিত হয়নি।’

দ্বিতীয়ত : ট্রাম্পের কাছ জানতে চাওয়া হয়, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে মনে করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু আমি মনে করি চীনও হস্তক্ষেপ করেছে। আমি মনে করি, অন্যান্য দেশও করেছে। আমি অকপটেই মনে করি, চীন হচ্ছে বড় সমস্যা।’

তৃতীয়ত : ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি কিভাবে উত্তর কোরিয়া নেতা কিম জং উনকে সাদরে গ্রহণ করলেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন যে উন মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। কিন্তু এই প্রচেষ্টার ফল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুমকি কমিয়ে আনতে পারা। ট্রাম্প বলেন, ‘অবশ্যই। আমি সবই জানি। আমি বলতে চাই, আমি শিশু নই। আমি জিনিসগুলো জানি। খেয়াল রাখুন, এটাকে (প্রচেষ্টা) চলতে দিন। তাঁর (উন) কাছ থেকে আসলেই আমি ভালো কিছু পেয়েছি। তাঁকে নিয়ে আমার দারুণ উদ্দীপনা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে আমার দারুণ রসায়ন রয়েছে। কী ভয়ংকর হুমকি ছিল আপনি তাকিয়ে দেখুন। (কিন্তু) আর কোনো হুমকি নেই, আর কোনো হুমকি নেই।’

চতুর্থত : চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হবে, হবে...চীনের ওপর আরো ট্যারিফ আরোপ করা হবে। তারা এখন আলোচনা করতে চায়।’ কিন্তু আলোচনা করতে প্রস্তুত কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শি চিনপিংয়ের (চীনা প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে আমার চমৎকার রসায়ন রয়েছে।’

পঞ্চমত : তাঁকে প্রশ্ন করা হয় তিনি স্পেশাল কাউন্সেল (রাশিয়ার হস্তক্ষেপবিষয়ক তদন্তকারী) রবার্ট মুলারের কাজে বাধা দেওয়া থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবেন কি না। জাবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যেকোনো কিছু নিয়ে অঙ্গীকার করি না। তবে আপনাকে বলব, এমনটা (হস্তক্ষেপ) করার আমার কোনো ইচ্ছা নেই।’

ষষ্ঠত : হোয়াইট হাউসে আস্থাহীন লোকজন আছে— ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিও এমনটা মনে করি। আমি হোয়াইট হাউসে প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আস্থা রাখি না।’

সপ্তমত : প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি কী শিখেছেন এবং কী বিষয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি চমকিত হয়েছেন, এ প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, হোয়াইট হাউসে ঢোকার আগে যে রাজনৈতিক অফিস চালায়নি, তার জন্য ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ আফসোসের বিষয়। ব্যবসায়ী থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর কাছে সবচেয়ে কঠিন মানুষ কে। জবাবে বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতারা। এটা (রাজনীতি) খুবই কূটকৌশলী, বিদ্বেষপূর্ণ জগৎ। এটা বিদ্বেষপূর্ণ; এটা মিথ্যায়, শঠতায় ও ছলনায় পরিপূর্ণ।’

অষ্টমত : জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিকে ধাপ্পাবাজি মনে করেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, কিছু একটা ঘটছে। কিছু পরিবর্তন হচ্ছে। অতঃপর এটি আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে। আমি এটাকে ধাপ্পাবাজি মনে করি না। তবে বিষয়টিকে আমি ভিন্নভাবে দেখি।’ এই জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের কারণে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য তিনি ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন অর্থ সহায়তা দিতে পারেন না।

নবমত : যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্রেট কাভানোহকে বিচারপতি নিয়োগ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এ বিষয়টি নিয়ে আপনাকে বলব। বিচারপতি কাভানোহকে শুধুই মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য ফ্যাক্টর বানানো হয়েছে।’

 



মন্তব্য