kalerkantho


খাশোগিকে হত্যার অভিযোগ

সৌদি কনস্যুলেটেতুরস্কের তল্লাশি

বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দেখা করতে পম্পেও সৌদি আরব যাচ্ছেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সৌদি কনস্যুলেটেতুরস্কের তল্লাশি

প্রখ্যাত সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গতকাল সোমবার শেষ দিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে তল্লাশির কথা ছিল তুরস্কের। দেশটির একটি কূটনৈতিক সূত্র গতকাল এ তথ্য জানায়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে খাশোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। বাদশাহ তাঁকে জানিয়েছেন, তিনি (বাদশাহ) খাশোগি সম্পর্কে কিছু জানেন না। এক টুইটে ট্রাম্প জানান, শিগগিরই তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সৌদি আরব পাঠাবেন।

অন্যদিকে গতকাল বাদশাহ সালমান খাশোগি ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, স্থানীয় সময় ‘সন্ধ্যায় এই তল্লাশি চালানো হতে পারে।’ ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক ও সৌদি নাগরিক খাশোগি গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে নিখোঁজ হন। তুরস্কের দাবি, কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিতে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রিয়াদের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরুর এ সিদ্ধান্ত এলো। এ মাসের শেষের দিকে রিয়াদে বিনিয়োগবিষয়ক একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। খাশোগির ঘটনার প্রেক্ষাপটে বহু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁরা সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না।

সূত্র বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিতে পারে তুরস্কের বাহিনী। খাশোগির অন্তর্ধানের দিন সৌদি আরব থেকে ব্যক্তিগত বিমানে করে একটি দল ইস্তাম্বুলে আসে। এই দলটিই খাশোগির হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় বলে মনে করা হয়।

গত রবিবার সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। এই সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল তাঁদের দুজনের মধ্যে প্রথম ফোনালাপ। এর পরই সৌদি আরব থেকে আরেকটি দল তুরস্কে পৌঁছায়। গতকাল কনস্যুলেটের তল্লাশিতে এই দলটিরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

খাশোগির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। খাশোগি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি আরবের ইয়েমেনে অভিযানের তীব্র সমালোচক। রিয়াদের দাবি, কনস্যুলেটে প্রবেশের পরপরই ভবন ছেড়ে যান খাশোগি। তবে তুরস্কের পুলিশের দাবি, খাশোগি ওই ভবন ছেড়ে বের হননি।

গত সপ্তাহে এই বৈরী দেশ দুটি খাশোগি রহস্যের সমাধান টানতে একটি যৌথ কার্যকরী গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময়ই জানা যায়, কনস্যুলেটের ভেতরে তুর্কি কর্মকর্তাদের তল্লাশি চালানোর অনুমতি দিয়েছে সৌদি আরব। তবে পরে রিয়াদ জানায়, শুধু চোখে দেখে তল্লাশি চালাতে পারবে তুরস্ক। আংকারা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে তুরস্কের সরকারপন্থী পত্রিকা সাবাহ জানায়, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ লুমিনল ব্যবহার করে তল্লাশি চালাতে চায়। এই রাসায়নিক ব্যবহার করে রক্তের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া সম্ভব। 

খাশোগির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ সাড়া পড়েছে। ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত চালানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে এত প্রতিক্রিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রিয়াদ। গত রবিবার তারা জানায়, এ নিয়ে কোনো দেশ যদি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তারাও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 



মন্তব্য