kalerkantho


ভারতকে দশবার সার্জিক্যাল হামলার হুমকি পাকিস্তানের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



একবার সার্জিক্যাল হামলা চালালে জবাবে দশবার সার্জিক্যাল হামলা চালানো হবে—ভারতকে এ হুমকি দিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি পরমাণু অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বাগ্যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে শনিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগের (আইএসপিআর) মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে গফুর লন্ডনে যান। গফুর বলেন, ‘পাকিস্তানকে কেউ দুর্বল ভাবলে সেটা হবে তাদের বোকামি। আমাদের ক্ষমতার ওপর সন্দেহ প্রকাশ করা উচিত নয়। পাকিস্তানের মাটিতে ভারত যদি একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালায়, উত্তরে দশটি ফেরত দেওয়া হবে।’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওঠা সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অভিযোগও নাকচ করেছেন আসিফ গফুর। সেনাবাহিনী পাকিস্তানের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ এই কর্মকর্তার হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নয়াদিল্লি। একে আস্ফাালন বলেই কটাক্ষ করছেন নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকের শীর্ষ কর্তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ঢুকে বিশেষ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনারা। উরিতে সন্ত্রাসী হামলার পাল্টা ব্যবস্থা নিতেই ওই অভিযান চালায় ভারত। সেই অভিযানের কোনো বিস্তারিত তথ্য এত দিন প্রকাশ করেনি ভারত সরকার।

সম্প্রতি ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ দিবস পালন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানের মাটিতে আবারও সার্জিক্যাল স্টাইকের ইঙ্গিত দেন। বলেন, ‘দুই-তিন দিন আগে বড় ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা এখনই প্রকাশ্যে আনছে না সরকার। কিন্তু যা হয়েছে তা বিশাল বড় কিছু। ফলে আবারও সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান অধিকৃত জমিতে ঢুকে ভারতীয় সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের সম্ভাবনা আরো প্রকট হয়ে উঠেছে।’

একই ভাষায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ইঙ্গিত দেন ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে ভারতের আরো একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রয়োজন হতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি তত দিন সম্ভব নয়, যত দিন পাকিস্তান নিজেদের সেনা এবং আইএসআইয়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে। সীমান্তে জঙ্গিদের মদদ দেওয়া বন্ধ না হলে পরিস্থিতির উন্নতিও হবে না।’ সূত্র : এনডিটিভি, পিটিআই।

 



মন্তব্য