kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জবাব

যৌথ সামরিক সংলাপ স্থগিত করেছে চীন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দূরত্ব ক্রমে বাড়ছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক সংলাপ স্থগিত করে দিয়েছে বেইজিং। কারণ হিসেবে তারা বলছে, রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার ‘অজুহাতে’ যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার প্রতিবাদেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছর রাশিয়ার কাছ থেকে ‘এসইউ-৩৫’ মডেলের ১০টি যুদ্ধবিমান কেনে চীন। এ বছর কিনেছে ‘এস-৪০০’ মডেলের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরঞ্জাম। মূলত এ কারণে গত বৃহস্পতিবার চীনের ‘ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’-এর (ইইডি) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইইডি চীনের সামরিক বিভাগের একটি শাখা, যেটি সামরিক সরঞ্জাম বেচাকেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, চীনই একমাত্র দেশ, যারা এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র (এস-৪০০) সরঞ্জাম কিনল। তিনি জানান, রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিধি-নিষেধ আছে, এসব অস্ত্র কিনে চীন সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, তাঁদের এ নিষেধাজ্ঞা মূলত রাশিয়াকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে, চীন নয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ দর্শাতে গতকাল মার্কিন রাষ্ট্রদূত টেরি ব্রানস্টাডকে তলব করেন চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জেং জেগুয়াং। এ ছাড়া চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার সামরিক সংলাপ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ সংলাপ হওয়ার কথা ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া ছাড়াই আরো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও চীনের সামরিক বাহিনী রাখে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উ কিয়ান বলেন, ‘সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার যে স্বাভাবিক সম্পর্ক রয়েছে, তার ভিত্তিতেই রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।’

উল্লেখ্য, ‘এস-৪০০’-কে পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও বলা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি রাডার, কন্ট্রোল সিস্টেম এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো ২৫০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে সক্ষম। রাশিয়া ২০০৭ সালে সর্বপ্রথম এটি মোতায়েন করে। বলা হয় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবেলায় এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তুরস্ক এরই মধ্যে এ ব্যবস্থা কেনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সূত্র : রয়টার্স।



মন্তব্য