kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন

পাকিস্তানের জঙ্গিরা আঞ্চলিক হুমকি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানের জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বা কেবল সে দেশের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের হুমকি হয়ে আছে এবং এ হুমকি মোকাবেলায় পাকিস্তান সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি—যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেররিজম’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

২০১৭ সালের পরিস্থিতি নিয়ে করা এ প্রতিবেদনে হাক্কানি নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীর ব্যাপারে বলা হয়, এসব গোষ্ঠীর জন্য পাকিস্তান এক নিরাপদ স্বর্গ হয়ে আছে। সব জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাকিস্তান যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত দেশটির সামরিক বাহিনীকে নতুন করে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পদক্ষেপের পরও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং জঙ্গিদের প্রতিহত করতে ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

আল-কায়েদার ব্যাপারে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয় দেশে আল-কায়েদা পরিস্থিতির ‘মারাত্মক’ অবনতি হয়েছে। এর পরও আল-কায়েদার আঞ্চলিক ও বিশ্বপর্যায়ের নেতারা বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নিজেদের কার্যক্রম কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এমন এলাকায় বসে কাজ করে যাচ্ছে, যেসব এলাকাকে তারা বহুদিন ধরে নিরাপদ স্বর্গ হিসেবে অপব্যবহার করে আসছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী যেন পাকিস্তানে সক্রিয় থাকতে না পারে, সে জন্য দেশটির সরকার ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বটে, তবে তাতে পাকিস্তানে বসে দেশের বাইরে জঙ্গিদের হামলা চালানো বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অব্যাহত অভিযান সত্ত্বেও সব জঙ্গিগোষ্ঠীর ওপর এ অভিযানের সমান প্রভাব পড়েনি—এমন মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালিয়েছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী।

আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক, তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের সরকারের রাজনৈতিক সমঝোতায় সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে পাকিস্তান সরকার। সেই সঙ্গে আফগান তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানকে যে ক্রমাগত হুমকি দিয়েছে, সেটাও প্রতিহত করেনি পাকিস্তান সরকার—মার্কিন প্রতিবেদনে এমন অভিযোগও করা হয়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।



মন্তব্য