kalerkantho


বন রক্ষার জন্য শিকার ছেড়ে দিয়েছে আদিবাসীরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বন রক্ষার জন্য শিকার ছেড়ে দিয়েছে আদিবাসীরা

ছায়ইভি চিনইয়ি একসময় ছিলেন দক্ষ শিকারি। ছবি : এএফপি

ভারতের নাগাল্যান্ডের আদিবাসীরা বন্য প্রাণী এবং বন রক্ষার জন্য তাদের বহু প্রাচীন ঐতিহ্য শিকার করা ছেড়ে দিয়েছে। একসময় ৭৬ বছর বয়সী ছায়ইভি চিনইয়ি ছিলেন দক্ষ শিকারি। কিন্তু ২০০১ সালে এসে তিনি শিকার করা বন্ধ করে দেন।

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য নাগাল্যান্ডের এই আনগামি আদিবাসীদের জীবিকার প্রধান উপজীব্য ছিল পশু শিকার করা। কিন্তু ২০ বছর আগে তারা সেটা একেবারে ছেড়ে দেয়। কারণটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো মনে হবে। তারা সেটা করেছে জীববৈচিত্র্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। সেটাও আবার তাদের পরবর্তী বংশধরদের কথা চিন্তা করে। শত শত বছর ধরে প্রত্যন্ত অঞ্চল যেমন পাহাড়ি গ্রাম খোনোমার লোকেরা বেশির ভাগ সময় ব্যয় করত শিকার করে। তারা পশু শিকার করত শুধু খাওয়ার জন্য নয়, এটা তাদের বহুদিনের ঐতিহ্য এবং জীবনের একটা অংশ।

ঘটনার শুরু হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। তখন একদল আদিবাসী পশু শিকার বন্ধ করার জন্য প্রচারণা চালাতে থাকে। তারা এই কাজটা করতে উৎসাহিত হয়েছিল যখন তারা দেখল ট্রাগোপান নামের একটা বিশেষ ধরনের পাখি ক্রমেই বিলুপ্ত হতে শুরু করেছে। ওই এলাকাটা ছিল কয়েক শত পাখির আবাসস্থল। কিন্তু তাদের ওই পাখি মেরে মাংস খাওয়ার যে প্রবৃত্তি, সেটাতেই পাখিগুলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছিল। ফলে গ্রামের কাউন্সিল থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার তারা ঘিরে রাখবে যাতে করে কেউ ওই এলাকায় শিকার করতে না পারে। ১৯৯৮ সালে ওই হয়ে গেল খোনোমা নেচার কনজারভেশন এলাকা এবং ট্রাগোপানের অভয়ারণ্যে পরিণত হলো।

ওই একই বছর কাউন্সিল কোনো প্রকার শিকার, বন জ্বালিয়ে দেওয়া এবং কোনো ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে শিকার করা পশুর মাথাগুলো কাউন্সিল সদস্যদের বাড়িতে সাজিয়ে রাখার জন্য উৎসাহিত করা হতো। যদিও বেশির ভাগ শিকারি তাদের রাইফেল ব্যবহার করে করে না; কিন্তু এখনো কিছু কিছু বাড়িতে পশুদের মাথা দেখা যায়, যেগুলো তারা আগে শিকার করেছিল।

তারা যেসব অস্ত্র ব্যবহার করত সেগুলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে দেওয়া হতো। শিকার করা একই সঙ্গে তাদের দক্ষতার এবং সাহসিকতার পরিচয় বহন করত।

এই সম্প্রদায়টি লোকসংগীত পছন্দ করে এবং কোনো অনুষ্ঠানে বা গ্রামের কাউন্সিলের সামনে গেয়ে থাকে। খোনোমা গ্রামে এখন অনেক ধরনের গাছ রয়েছে। যেগুলোর ওষধি গুণাগুণ রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনেক বন্য গাছ। সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য