kalerkantho


ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অধ্যাদেশ

তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের লোকসভায় পাস হয়েছিল বিলটি। কিন্তু নানা জটিলতায় পেশ হয়নি রাজ্যসভায়। অবশেষে রাজ্যসভায় পেশ হওয়ার আগেই সেই ‘তিন তালাক’ নিয়ে অধ্যাদেশ জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। এতে ‘তিন তালাককে’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণাকে মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ পাস হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ এ খবর জানান। অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির সইয়ের পরই দেশটিতে তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। লোকসভা ভোটের আগে এই অধ্যাদেশ জারি করে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) মুসলিম সম্প্রদায়ের মন জয়ের চেষ্টা করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আগেই তালাক-ই-বিদ্দাত বা তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। শীর্ষ আদালতের ওই রায়কে মর্যাদা দিতেই তৈরি হয় মুসলিম উয়োমেন (প্রটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৭। গত শীতকালীন অধিবেশনেই লোকসভায় বিলটি পাস হয়। কিন্তু বিরোধীরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তোলে। এ ছাড়া আরো কিছু জটিলতায় শেষ পর্যন্ত রাজ্যসভায় পেশ করা হয়নি এই বিল। তাই এবার অর্ডিন্যান্স জারি করে তিন তালাককে আইনি স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র।

এই বিলে বলা হয়েছে তাৎক্ষণিক তিন তালাক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ তালাক শব্দটি তিনবার বলে স্ত্রীকে ত্যাগ করে তবে তার তিন বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে। বিলে নারী ও তার শিশুকে অস্তিত্ব ভাতা দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। ছোট শিশুর ক্ষেত্রে অধিকার পাবেন মা—এমনও সংস্থান রাখা হয়েছে বিলে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে—মুখেই হোক কিংবা টেলিফোন, মোবাইল বা অন্য যেকোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ অথবা এসএমএস করে দেওয়া তিন তালাক অবৈধ।

অর্ডিন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, এখন শুধু রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সই বাকি। তার পরই তিন তালাক ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাসের মধ্যে সংসদের উভয় কক্ষেই অর্ডিন্যান্স পাস করাতে হয়। সেটা সম্ভব না হলে আবার নতুন করে জারি করতে হয় অর্ডিন্যান্স। লোকসভা এরই মধ্যে পাস করেছে। এবার শীতকালীন অধিবেশনেই এই বিল পাস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছরের আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাককে অবৈধ ঘোষণা করেন। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মুসলিম সম্প্রদায়ের এই বিবাহবিচ্ছেদ প্রথা নারীদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে। তার পর থেকেই বিল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্যদিকে বিল রাজ্যসভায় পেশ না হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বহুবার বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেছেন, বিরোধীদের জন্যই রাজ্যসভায় বিল পেশ করা যায়নি। বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, সরকারই চায় না সংসদে বিলটি পাস হোক।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ তিন তালাককে ‘বর্বর ও অমানবিক’ অভিহিত করে বলেন, প্রায় ২২টি তিন তালাককে নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে ভারতে আজ লৈঙ্গিক ভেদাভেদের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

অর্ডিন্যান্স জারির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘আমরা আলোচনায় রাজি ছিলাম। কিন্তু সরকার বিরোধীদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনাই করেনি। এটাই মোদি সরকারের কাজ করার ধরন।’

রাজনৈতিক চর্চা যা-ই হোক, আপাতত মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট যে যুগান্তকারী রায় দিয়েছিলেন, এ দিনের অর্ডিন্যান্স সেই পদক্ষেপে আরো এক ধাপ এগোল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সূত্র : পিটিআই।



মন্তব্য