kalerkantho


জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বন্‌ধ্‌

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ভারতজুড়ে বন্‌ধ্‌

ভারতের চেন্নাইতে বনেধ্র সমর্থনে গতকাল সিপিআই-এম কর্মীদের বিক্ষোভ। ছবি : এএফপি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও রুপির দরপতনের প্রতিবাদ এবং বেশ কিছু দাবিতে কংগ্রেস, বামসহ ২১টি রাজনৈতিক দলের ডাকে গতকাল সোমবার ভারতজুড়ে বনধ্ পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে অবরোধে শামিল হয় বনধ্ সমর্থনকারীরা। দিল্লিতে রাজঘাট থেকে মিছিল করে রামলীলা ময়দানে সভা করছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা। বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্র প্রদেশে ট্রেন ও জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশেও প্রভাব পড়েছে বনধে্‌র। মধ্য প্রদেশের উজ্জয়িনীতে পেট্রল পাম্পে ভাঙচুরের জেরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে বনধ্ সমর্থনকারীদের। তবে বড় কোনো অশান্তির খবর মেলেনি।

রাজধানী দিল্লিতে বনধে্‌র সমর্থনে মিছিল করে কংগ্রেস। রাজঘাট থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী। রামলীলা ময়দানে মিছিল শেষে একটি সমাবেশে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতারা। সমাবেশে ছিলেন কংগ্রেসদলীয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, গুলাম নবী আজাদ, এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার, জেডিইউর শরদ যাদব ও অন্যান্য দলের নেতা-নেত্রীরা। সমাবেশে মনমোহন বলেন, ‘মোদি সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এই সরকারের পরিবর্তন আসন্ন।’

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাহুল বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির শাসনে গোটা দেশে হিংসা ছড়িয়েছে। বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘আপনি ঠিকই বলেন, ৭০ বছরে যা হয়নি। তা এখন হচ্ছে। দেশজুড়ে হিংসা।’

ভারত বনেধ্‌ সমর্থন দেন শরদ পাওয়ার, এম কে স্ট্যালিন এবং সিপিআইএম। বেঙ্গালুরুর শাসক দল জেডি (এস) ভারত বনধে্‌র ঘোষণার পরই রাজ্যে গতকাল স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়। ওড়িশাতে বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজসহ সব সরকারি কাজকর্ম।

কর্ণাটকেও ব্যাপকভাবে সমর্থন পেয়েছে বনধ্। সেখানে সব ধরনের পরিষেবা বন্ধ ছিল বলে জানা যায়। দানাপুরসংলগ্ন ৩০ নম্বর জাতীয় সড়কে আরজেডি সমর্থকরা বনধ্‌কে সফল করতে টায়ার পুড়িয়ে পথ অবরোধ করে। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বনধ্‌কে অসফল করতে জারি হয়ছ ১৪৪ ধারা। রাজস্থান, গুজরাট, তেলঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশসহ বেশ কিছু রাজ্যে ভারত বনধে্‌র প্রভাবে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

সমর্থকরা পথ অবরোধ, ট্রেন আটকে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয়নি সোমবার। তবে পশ্চিমবঙ্গে বনধে্‌র আংশিক প্রভাব পড়ায় এ রাজ্যে স্বাভাবিক ছিল জনজীবন। সূত্র : আনন্দবাজার।



মন্তব্য