kalerkantho


তলে তলে চলছে ট্রাম্পকে হটানোর প্রক্রিয়া!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



একজন প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ঠিক কখন শুরু হয়—নির্দিষ্ট করে সেই লগ্নটা আলাদা করা অসম্ভব। কিন্তু মার্কিন রাজনীতিতে গত ৪৮ ঘণ্টার যে নাটক, তাতে এটা বলা যায় যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিত্রনাট্য অন্যদের চেয়ে আলাদাই হবে। ট্রাম্পের শাসনক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা কিংবা আচার-ব্যবহার নিয়ে একেকজন একেক ধারণা পোষণ করলেও গোটা ওয়াশিংটন এখন একমত যে নির্বাচিত একজন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে হটানোর চেষ্টা চলছে।

খোদ ট্রাম্পের মধ্যেও যে এই ‘ভয়’ কাজ করছে, সে ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। গত বুধবার এক টুইটার বার্তায় তিনি শুধু একটি শব্দ লিখেছেন—‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা?’

ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে যে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তার নেপথ্যে মূলত দুটি দৃশ্যপট রয়েছে। এর প্রথম দৃশ্যপট রচনা করেন খ্যাতিমান মার্কিন সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড। ‘ফিয়ার : ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ নামের বইতে তিনি লিখেছেন, ট্রাম্প একবার সিরিয়ায় ঢুকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। এ ছাড়া ওই বইতে ট্রাম্পকে বদমেজাজি ও অদক্ষ বলেও মন্তব্য করেন লেখক। উডওয়ার্ড এ ইঙ্গিতও দেন যে হোয়াইট হাউসের অনেকেই ট্রাম্পের নেতৃত্বে নাখোশ।

উডওয়ার্ডের এ ইঙ্গিত একেবারে খোলাসা করে এবার দ্বিতীয় দৃশ্যপট আঁকলেন হোয়াইট হাউসেরই এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা গত বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমসে এক উপসম্পাদকীয়তে বলেন, ‘সব সমস্যার মূলে রয়েছে প্রেসিডেন্টের নীতিহীনতা। তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন—এমন সবাই জানেন যে তাঁর কাজের সঙ্গে নৈতিকতার কোনো সম্পর্কই নেই।’

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অনেক সিদ্ধান্ত মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী। এ কারণে হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা ট্রাম্পের হঠকারিতার প্রভাব এড়াতে সক্রিয় রয়েছেন।’ বেনামি ওই লেখক নিজেকে ওই কর্মকর্তাদেরই একজন হিসেবে দাবি করেছেন।

‘আমি হোয়াইট হাউসে চলমান প্রতিরোধ প্রক্রিয়ার একটা অংশ’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে ওই উপসম্পাদকীয়। তাতে হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা এও লিখেছেন যে ‘ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের কথাও ভেবেছিলেন।’ ওই সংশোধনীতে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কারণে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিধান রাখা হয়েছে।

চলমান পরিস্থিতিতে অনেক মার্কিন কর্মকর্তাই এখন সতর্ক করে দিয়ে বলছেন যে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু অযোগ্যই নয়, সেই সঙ্গে তাঁর অহংবোধ এবং একগুঁয়ে স্বভাব রিপাবলিকানদের পাশাপাশি পুরো বিশ্বকেই হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারদলের সাবেক সহযোগী মাইকেল কাপুটো সিএনএনকে বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে মার্কিন প্রশাসনে এমন কেউ আছেন, যিনি ট্রাম্পের পাশে থেকে কাজ করেন, কিন্তু তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চান।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা রাজনীতিতে ট্রাম্পের মতো এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আছেন। আবার এমন নেতাও খুব কম আছেন, যিনি ‘ঘরে এত শত্রু’ থাকার পরও ক্ষমতায় রয়ে গেছেন।

বেনামি এই উপসম্পাদকীয় নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বেনামি...ভীরু। সাহসহীন এক উপসম্পাদকীয়। আদৌ এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অস্তিত্ব আছে; নাকি এটাও নিউ ইয়র্ক টাইমসের আরেকটি মিথ্যাচার? যদি সত্যিই ওই লেখকের অস্তিত্ব থাকে, তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নিউ নিয়র্ক টাইমসকে অবশ্যই তাঁর নাম জানাতে হবে।’ সূত্র : সিএনএন।



মন্তব্য