kalerkantho


মে’র কঠোর সমালোচনায় জনসন

চেকার্স সমঝোতায় ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্য ‘ঘোড়ার ডিম’ পাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ব্রেক্সিট (ইইউ ও যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনামাফিক ব্রেক্সিটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে যুক্তরাজ্য ‘ঘোড়ার ডিম’ পাবে। ব্রেক্সিট নিয়ে ইইউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না—টেরেসার এমন মন্তব্যের পরদিনই এর জবাব দিলেন জনসন।

আগামী ২৯ মার্চ ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। টেরেসা মের মন্ত্রিসভার সদস্যরা গত জুলাইয়ে ইইউ ছাড়ার একটা রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। ওই রূপরেখাটি ‘চেকার্স সমঝোতা’ হিসেবে পরিচিত। চেকার্স হলো  যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন; যেখানে এ সমঝোতাটি হয়েছিল।

শুরু থেকে অনেকেই ‘চেকার্স সমঝোতা’র সমালোচনা করে আসছেন। এমনকি এর বিরোধিতা করে যে দুজন মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান, তাঁদের একজন বরিস জনসন।

গতকাল ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় ‘চেকার্স সমঝোতা’ নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন জনসন। সেখানে তিনি টেরেসা মের কঠোর সমালোচনা করেন। সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, ‘চেকার্স সমঝোতা’ যুক্তরাজ্যের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

টেরেসা মের সরকার জোর দিয়ে বলছে, তারা যে রূপরেখা (‘চেকার্স সমঝোতা’) চূড়ান্ত করেছে, তা নির্ভুল ও সময়োপযোগী। ওই রূপরেখায় এমন একটি বিধি রাখা হয়েছে, যার অধীনে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাণিজ্যের অনুমোদন রয়েছে। মূলত দুই পক্ষের সীমান্ত এলাকার বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যেই এই বিধি রাখা হয়েছে। কারণ ব্রেক্সিট সম্পন্ন হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্য নীতি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা করছেন অনেকে। সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, ওই বিধি রাখার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম-নীতি মানতে বাধ্য হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য চুক্তিতেও বিষয়টি বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।

জনসন তাঁর নিবন্ধে লেখেন, ‘সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সরকারের অনেকেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে আমরা ব্যর্থ, এমন কথা বলা যাবে না। কারণ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টাই আমরা এখনো করিনি।’

ব্রেক্সিটের পর ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে—তা চূড়ান্ত করার জন্য আগামী মাস পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক একটা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। তবে উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময়সীমা অন্তত একমাস বাড়বে।

জনসনের সন্দেহ, ব্রেক্সিট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটা পাতানো খেলা চলছে, যেখানে যুক্তরাজ্য ইউরোপের হাতে জয় তুলে দিতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ডমিনিচ রাব ও মাইকেল বার্নিয়ার একটা রেসলিং ম্যাচে অংশ নিয়েছেন, যেখানে আগেভাগেই ইইউয়ের জয় নিশ্চিত হয়ে আছে।’ ডমিনিচ যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী। অন্যদিকে বার্নিয়ার হলেন ইইউয়ের ব্রেক্সিটবিষয়ক প্রধান; যিনি নিজেও ওপরে ওপরে টেরেসা মের চেকার্স সমঝোতার বিভিন্ন অংশের সমালোচনা করে আসছেন। গত রবিবারও তিনি বলেছেন, ‘চেকার্স সমঝোতা’র সব কিছুই ইইউ মেনে নেবে না। সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য