kalerkantho


মুন-উনের তৃতীয় বৈঠক

দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ দূত উত্তরে যাবেন আগামী সপ্তাহে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের পরিকল্পনা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী বুধবার পিয়ংইয়ংয়ে একজন বিশেষ দূত পাঠাবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুনের কার্যালয়ের মুখপাত্র কিম ইউ কেয়ম সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ দূত আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পিয়ংইয়ং যাবেন। তবে বিশেষ দূত হয়ে কে সেখানে যাচ্ছেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া গতকাল শুক্রবার সকালে এই সফরের প্রস্তাব করে এবং কয়েক ঘণ্টা পরই পিয়ংইয়ং ইতিবাচক জবাব দেয়। কেয়ম বলেন, ‘সফরে শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে দিনক্ষণ, দুই কোরিয়ার সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে দূত বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এ ছাড়া কোরিয়া দ্বীপপুঞ্জে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়েও তিনি কথা বলবেন।’

বিশেষ দূত হিসেবে কে পিয়ংইয়ং যাচ্ছেন, তা নিয়ে এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র সম্ভাব্য দূত হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাপ্রধান সু হুন এবং মুনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চুং ইউ-ইয়ংয়ের নাম লিখেছে।

বৈরী সম্পর্কের দুই দেশের দুই প্রধান এ পর্যন্ত দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন। গত এপ্রিলে সীমান্ত গ্রাম পানমুনজমে তাঁদের প্রথম ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ হয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধে কোরিয়া দ্বীপপুঞ্জ বিভক্ত হওয়ার পর এটাই ছিল উত্তর কোরিয়ার কোনো নেতার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম সফর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ডের সঙ্গে কিমের বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য পানমুনজমে তাঁরা দ্বিতীয়বার সাক্ষাৎ করেন। তখনই তৃতীয় বৈঠকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। স্থান নির্ধারণ হলেও দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়নি।

গত জুনে ট্রাম্প ও উন কোরিয়া দ্বীপপুঞ্জকে পুরোপুরিভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে একই সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে কিভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে, তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা ছিল না। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দস্যুদের মতো আচরণ করছে বলে পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করছে, এমন কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে গত সপ্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর পিয়ংইয়ং সফর বাতিল করে দেন এবং উত্তর কোরিয়ার একমাত্র মিত্র দেশ চীনকে বিশ্বাস করেন না বলে জানান। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য