kalerkantho


কাশ্মীরে পুলিশ পরিবারের ১১ সদস্য অপহরণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কাশ্মীরে পুলিশ পরিবারের ১১ সদস্য অপহরণ

ভারতশাসিত কাশ্মীরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা পুলিশ পরিবারের ১১ সদস্যকে অপহরণ করেছে। ওই সব পরিবারের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শোপিয়ান, পুলওয়ামা, কুলগাম ও অনন্তনাগ জেলায় এসব অপহরণের ঘটনা ঘটে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে এসব অপহরণের ঘটনা ঘটনা।

জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫(এ) ধারার শুনানি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। ওই শুনানি নিয়ে কাশ্মীরিদের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন অতিবাহিত হয় গতকাল। সেখানে আংশিক কারফিউও জারি রয়েছে।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩৫(এ) ধারার শুনানি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত করেছে। আদালত গতকাল শুক্রবার জানিয়েছেন, এখন এই মামলার শুনানি চললে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। কাশ্মীর উপত্যকায় আগামী তিন মাস ধরে পঞ্চায়েত নির্বাচন চলবে। এই মামলার শুনানি হবে তার পরে।

বিচারপতি এ এম খানউইলকর বলেন, ‘রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যখন এমন সঙ্গীন অবস্থা, তখন কিভাবে আমরা কোন যুক্তিতেই বা এই মামলার শুনানিটা শুনতে পারি?।’ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫(এ) ধারাটি ১৯৫৪ সালে প্রযোজ্য হয়। এটি রাষ্ট্রপতি আইন। এই আইনের ফলে জম্মুু-কাশ্মীরের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ ছাড়া আর কেউ উপত্যকায় জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে না অথবা জমির মালিক হতে পারবে না। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও মামলার ফল না আসায় অনেকেই হতাশ।

অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর সন্ত্রাসবাদীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে। তাতে লস্কর-ই-তৈয়বা, হিজবুল মুজাহিদীন, জইশ-এ-মহম্মদ, আলুবদর এবং আনসার গাজওয়াত উল হিন্দের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্যদের নাম রয়েছে। জেলাভিত্তিক স্তরে সাজানো হয়েছে এই তালিকা। কোন জঙ্গি কতটা মারাত্মক, সেটা বোঝাতে তালিকায় ‘গ্রেডেশন’ও করা হয়েছে সেনার পক্ষ থেকে।

গত বুধবার কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় চার পুলিশ নিহত হওয়ার পর দক্ষিণের জেলাগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী দমন অভিযান চলছে। ওই অভিযানে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গতকাল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশ সদস্যের ভাই ও সন্তানদের অপহরণ করার খবর শুনেছি। এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ কাজ করেছে বলে আমরা ধারণা করছি।’ তবে অপহরণের ঘটনার দায়িত্বও কেউ স্বীকার করেনি।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিক্ষোভ করে এবং শোপিয়ানে সন্দেহভাজন দুই বিচ্ছিন্নতাবাদীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অভিযান বন্ধে এবং বন্দি বিনিময়ে বাধ্য করতে পরিবারের সদস্যদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষস্তরের এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাই। তাঁর পোস্টিং ছিল শ্রীনগরে। অন্য এক পুলিশকর্মীর ছেলেকেও তুলে নিয়ে গিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। জানা গেছে, তিনি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে রান্নার কাজ করতেন।

বর্তমানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিধন করতে কাশ্মীরজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী। বৃহস্পতিবার শোপিয়ানে এ রকমই একটি অভিযানে গিয়েছিল যৌথ বাহিনী। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের খোঁজে তল্লাশি চালানোর সময় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেই অভিযানে দুই বিচ্ছিন্নতাবাদীর পাশাপাশি নিহত হয়েছিলেন চার পুলিশের কর্মী। এর পরই অভিযান আরো জোরদার করে যৌথ বাহিনী। শোপিয়ানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ডেরা ধ্বংস করে তারা। বেশ কয়েক জন বিচ্ছিন্নতাবাদীর পরিবারকে তুলে নিয়ে আসারও অভিযোগ উঠেছে যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে। এর পরই স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পুলিশকে ‘চাপে’ রাখতে পাল্টা অপহরণের রাস্তা বেছে নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

অপহরণের ঘটনার পরই ওই দিন রাতেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে কাশ্মীরজুড়ে। পুলিশকর্মীদের পরিবারের লোকজনদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে কাশ্মীরের কোনায় কোনায়।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সাল থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যে গেরিলা যুদ্ধ চলছে।

সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।



মন্তব্য