kalerkantho


শরণার্থীকেন্দ্র স্থাপনে ইইউর প্রস্তাব নাকচ লিবিয়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



লিবিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) শরণার্থীকেন্দ্র স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সারাজ এ কথা জানিয়েছেন। ইইউ নেতারা গত মাসে ইইউ সদস্য দেশের বাইরে শরণার্থী যাচাই-বাছাই কেন্দ্র স্থাপন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্য ইইউ নেতাদের জন্য নতুন করে বড় এক আঘাত হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ইতালি সরকার সাগর থেকে উদ্ধার করে আনা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কোনো বন্দরে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড। 

গতকাল শুক্রবার জার্মানির দৈনিক পত্রিকা বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ আল-সারাজ বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর শরণার্থী নিতে চায় না। তারা অবৈধ শরণার্থীদের আমাদের দেশে পাঠাতে চায়। আমরা এ সিদ্ধান্তের জোর বিরোধিতা করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘অবৈধ শরণার্থী নিতে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আর কোনো চুক্তি করতে চাই না। বরং যেসব দেশ থেকে শরণার্থী আসছে সেসব দেশের ওপর ইইউ নেতাদের চাপ প্রয়োগ করা উচিত।’

গত মাসে ইইউর শীর্ষ সম্মেলনের সময় ইইউ নেতারা শরণার্থী যাচাই-বাছাই করার জন্য ইইউ সদস্য দেশের বাইরে কোথাও একটা কেন্দ্র করার ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এই কেন্দ্র পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো দেশই এখন পর্যন্ত শরণার্থী অভ্যর্থনা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সম্মত হয়নি। মরক্কো তাদের অনাস্থার কথা আগেই জানিয়েছে। তার আগে তিউনিসিয়াও ইইউএর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল। আর আলবানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইদি রামা এই বিষয়ে বলেছিলেন, ‘এটা হচ্ছে ভয়ংকর কিছু লোককে গছিয়ে দেওয়া, যা অনেকটা বিষের মতো, যা কেউ চায় না।’

এদিকে ইতালি সরকার সাগরে শরণার্থী রক্ষা বন্দর বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়েছে ইতালির কোস্ট গার্ড। গত এক যুগে ইতালির কোস্ট গার্ড সদস্যরা লিবিয়ার উপকূল থেকে হাজার হাজার শরণার্থী উদ্ধার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পানি থেকে শরণার্থীদের উদ্ধার করেছে। তবে গত মাসে তাদের ‘সাহায্য’ চেয়ে যেসব আবেদন আসবে, সেসব আবেদন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা নৌকাগুলোকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে পাঠিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও ঐতিহ্যগতভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার সংস্কৃতি ইতালিতে নেই তা সত্ত্বেও কোস্ট গার্ড সদস্যরা এ ব্যাপারে কথা বলতে শুরু করেছেন। গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে কোস্ট গার্ডের একজন অ্যাডমিরাল এমন সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের এবং বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনির সমালোচনা করেছিলেন। সূত্র : এএফপি।

 

 



মন্তব্য