kalerkantho


বিপর্যয় হোক বা না হোক

ট্রাম্পকে ভয় পাচ্ছেন বহু রিপাবলিকান নেতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পকে ভয় পাচ্ছেন বহু রিপাবলিকান নেতা

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ধামাধরা হয়ে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন সমালোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় চলছে। কিন্তু রিপাবলিকানদের মধ্যে বিষয়টা নিয়ে যেন লুকোছাপা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর একটাই কারণ—নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী কোনো রিপাবলিকান এখন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মুখ খুলে নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংসের ঝুঁকি নিতে চান না।

বেশির ভাগ রিপাবলিকান আইন প্রণেতা আড়ালে স্বীকার করছেন, ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একেবারে যাচ্ছেতাই কথাবার্তা বলেছেন। ওই রিপাবলিকানদের অনেকে সেই একই কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন। এই ভয়টা তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি, যাঁরা আসছে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়াইয়ে নামছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জোরালো বিরোধিতা করার মানে হলো রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল, এমনটাই বলছেন কৌশল প্রণয়নকারী ও বিশেষজ্ঞরা।

আতঙ্কে মুখ বন্ধ রাখা রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের ব্যাপারে দলের ট্রাম্পবিরোধী কৌশল প্রণয়নকারী রিক টাইলার বলেন, ‘তাঁরা তাঁর (ট্রাম্পের) দৃষ্টিসীমার মধ্যেও আসতে চান না। তাঁরা সবাই বুঝে ফেলেছেন, ট্রাম্প কে।’

ট্রাম্পের ক্রোধের শিকার হলে পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াতে পারে, সেটার জলজ্যান্ত উদাহরণ সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ও ট্রাম্পের অন্যতম সমালোচক মার্ক স্যানফোর্ড। ট্রাম্পের টুইটের জেরে এ রাজনীতিক গত জানুয়ারির প্রাইমারিতে হেরে গেছেন। প্রেসিডেন্টের টুইটঝড়ে পড়ে কেউ স্যানফোর্ডের মতো রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটাতে চান না। ট্রাম্পের সুনজরে থাকার বাড়তি সুবিধাও আছে বটে—নির্বাচনী খরচের জোগাড়টা ঠিকঠাক হয়ে যায়।

তা ছাড়া ট্রাম্পকে জুতসই আক্রমণ করার ধারাটাও রিপাবলিকানদের ঠিকঠাক আয়ত্ত নেই। টাইলার বলেন, ‘কেউ জানে না, পাল্টা হামলা কিভাবে চালাতে হবে। ট্রাম্প আপনাকে টেনে কাদায় নামিয়ে ফেলবেন। এমন এক জায়গায় নামাবেন, যেখানে অনেক রাজনীতিকই যেতে অভ্যস্ত নন।’

যে রিপাবলিকানরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তাঁরা অবশ্য রাখঢাক না রেখেই ট্রাম্পের সমালোচনা করার মতো সাহস দেখাতে পারছেন। এ ধরনের রিপাবলিকানদের মধ্যে আছেন সিনেটর জন ম্যাককেইন, বব কর্কার, জেফ ফ্লেক, কংগ্রেস সদস্য রায়ান কস্টেলোর মতো ব্যক্তিরা।

ট্রাম্প-পুতিনের গত সোমবারের বৈঠক নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা যেমনই চলুক, তাতে রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় কিন্তু হেরফের হয়নি। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সিবিএস নিউজের জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, গত সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্পের কথাবার্তার প্রতি মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকানের সমর্থন আছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ সমর্থনের হার মাত্র ৮ শতাংশ। অন্যদিকে ৬৮ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য