kalerkantho


পাকিস্তানে নির্বাচন

নেপথ্য ও প্রকাশ্য খেলোয়াড় যাঁরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নেপথ্য ও প্রকাশ্য খেলোয়াড় যাঁরা

পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচনে এমন দুটি পক্ষ রয়েছে, নির্বাচনে যাদের বিপুল প্রভাব রয়েছে; কিন্তু সরাসরি অংশগ্রহণ নেই—এশিয়ার মুসলিমপ্রধান এ দেশের আশু নির্বাচনের পরিবেশকে এভাবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। একটি পক্ষ হচ্ছে, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সর্বেসর্বা নওয়াজ শরিফ এবং অন্য পক্ষ হচ্ছে, দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনী। এর বাইরে যারা রয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বটে, তবে তাদের ওপর কোনো না কোনোভাবে প্রভাব ফেলছে ওই দুটি পক্ষ।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত হওয়ার পর সাত দশকের প্রায় অর্ধেক সময়জুড়ে সেনাশাসনে ছিল পাকিস্তান। এমন একটি দেশের নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব বিস্তারকারী দুই পক্ষের হালচালটাই প্রথমে দেখে নেওয়া যাক—

নওয়াজ শরিফ : পাঞ্জাবের সিংহখ্যাত নওয়াজ পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু একবারও তিনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ পুরো করতে পারেননি। সর্বশেষ মেয়াদ পুরো করতে পারেননি কথিত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির জেরে। পানামা পেপারস শীর্ষক নথি ফাঁস হওয়ার জেরে তাঁর মেয়াদ পুরো করতে পারা দূরে থাক, উল্টো পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে তাঁকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছেন আদালত। 

নাটকীয়তা আরো বেড়ে যায় দুর্নীতি মামলায় এ মাসের শুরুতে নওয়াজের ১০ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর। একই মামলায় তাঁর মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় বাবা-মেয়ে লন্ডনে থাকলেও তাঁরা দেশে ফেরেন এবং বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবন পুনরুদ্ধারের জন্যই নওয়াজের দেশে ফেরা।

নওয়াজের দাবি, সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতানৈক্যের কারণে দুর্নীতি মামলার নামে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশকে সেনাশাসনমুক্ত করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সদিচ্ছা এবং আজন্ম শত্রু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা—এ দুটি কারণেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে নওয়াজের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে।

সেনাবাহিনী : পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান হলো সেনাবাহিনী এবং দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতির নিয়ন্ত্রণ এ প্রতিষ্ঠানের হাতে বলেই তাদের বিশ্বাস। এবারের নির্বাচনের আগে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে পিএমএল-এন নেতা নওয়াজকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাঁর জায়গায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খানকে সামনে আনার পেছনে পুরো ভূমিকা রেখেছে সেনাবাহিনী, এমন অভিযোগ করছে রাজনীতিক, বিশ্লেষক, সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন পক্ষ। সেনাবাহিনী অবশ্য দাবি করেছে, নির্বাচনে তাদের ‘সরাসরি কোনো ভূমিকা’ নেই।

ইমরান খান : ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান খান আজ পাকিস্তানের অন্যতম বিরোধীদলীয় নেতা। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অভিলাষ তিনি একদমই গোপন করেন না। ১৯৯৬ সালে দলের গোড়াপত্তন, এরপর খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক সরকারের অংশ হয়ে ওই প্রদেশ শাসনের সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। তবে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মুখ্য হয়ে ওঠার জন্য তাঁকে আরো লম্বা সময় দিতে হয়েছে। দ্রুত বেড়ে উঠতে থাকা পিটিআইয়ের নেতা হিসেবে এবারের নির্বাচনে তিনি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন কি না, সেটা পর্যবেক্ষকরা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও এটুকু বুঝতে পারছেন, নেতৃত্ব অর্জনের বড় ধরনের সুযোগ তাঁর হাতে রয়েছে।

সমালোচকরা অবশ্য মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী পদে বসার উপযুক্ত এখনো হননি ইমরান। তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার ওপর জোর দেওয়ার কারণে কেউ কেউ তাঁকে ‘তালেবা খান’ অ্যাখ্যা দিতে ছাড়েন না। সমালোচকদের আরেকটি পক্ষ আবার ইমরানের সঙ্গে সেনাবাহিনীর যোগসূত্র থাকার সন্দেহও করে।

শাহবাজ শরিফ : নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফকে তুলনামূলক কম কারিশমার অধিকারী হিসেবে দেখেন পর্যবেক্ষকরা। বড় ভাই নওয়াজের সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আলোচনার শীর্ষে থাকায় তিনি অনেকটাই যেন আড়ালে পড়ে আছেন। যা-ই হোক, প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি নওয়াজ দলীয় প্রধানের পদ হারানোর পর কাগজে-কলমে শাহবাজই এখন পিএমএল-এনের কর্তা। এ ছাড়া তাঁর নিজের কিছু অর্জনও রয়েছে। তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। প্রভাবশালী এ ব্যবসায়ী নমনীয়তার জন্য বেশি খ্যাতি পেয়েছেন এবং এ কারণে নওয়াজ কিংবা মরিয়মের চেয়ে সেনাবাহিনীর কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি : ভুট্টো পরিবারের এ তরুণ সদস্যের মা বেনজির ভুট্টো ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং নানা জুলফিকার আলী ভুট্টোও ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বিলাওয়ালের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এ নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা দুটিই কম। প্রভাব আর খ্যাতি খুইয়ে তলানিতে চলে যাওয়া একটি দলের নেতা হলেও বিলাওয়ালের খানিকটা সম্ভাবনা এখনো পর্যবেক্ষকরা দেখতে পাচ্ছেন, তবে সে ক্ষেত্রে তাঁকে পিএমএল-এন অথবা পিটিআইর সঙ্গে জোট গড়তে হবে। আর তিনি যদি ওই দুটি দলের কোনো একটির সঙ্গে জোট করেন, তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও তিনি হয়ে উঠতে পারেন অন্যতম এক প্রভাবক। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য