kalerkantho


‘পশ্চিমা গণতন্ত্রে আঘাতের চেষ্টা করবে রাশিয়া’

মার্কিনদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তাব নাকচ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



‘পশ্চিমা গণতন্ত্রে আঘাতের চেষ্টা করবে রাশিয়া’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বিশ্বাস, রাশিয়া অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের গণতন্ত্রে আঘাত হানার চেষ্টা করবে। গত বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কার কথা জানান তিনি। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা নাকচ করে দিয়েছেন।

বিশ্ব রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে ট্রাম্প ও পুতিনের গত সোমবারের বৈঠক। ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের কাছে তোপের মুখে আছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করায় ট্রাম্পের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে। এ অবস্থায় রাশিয়ার নতুন ষড়যন্ত্রের কথা বললেন পম্পেও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে রাশিয়া পশ্চিমা গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও করার চেষ্টা করবে। এসব হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’ পম্পেও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ভালো করেই জানেন যে রাশিয়া ২০১৬ সালের নির্বাচনে কী করেছে। ২০১৮ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে যেন একই ঘটনা না ঘটে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট আমাদের প্রয়োজনীয় সব কিছু করার ক্ষমতা দিয়েছেন।’

সিআইএর সাবেক পরিচালক পম্পেও মনে করেন, রাশিয়ার এ সংস্কৃতি সোভিয়েত আমলের। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু ২০১৬ সালের নির্বাচনে ঘটেনি। কিন্তু মার্কিনিরা কোনোভাবে কয়েক দশকের ইতিহাস ভুলতে বসেছে।’ অনেকেই মনে করেন, হেলসিংকিতে ট্রাম্প পুতিনের প্রতি এক ধরনের বশ্যতা স্বীকার করেছে। তবে এমন ধারণাকে ‘উদ্ভট’ বলে মন্তব্য করেন পম্পেও।

এদিকে রাশিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতসহ মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদের যে প্রস্তাব পুতিন দিয়েছেন, ট্রাম্প তা নাকচ করেছেন। যদিও শোনা যাচ্ছিল যে পুতিনের প্রস্তাবটি ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছেন।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স বলেন, ‘এটা এমন একটা প্রস্তাব, যেটা ট্রাম্প হালকাভাবে নেননি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এর সঙ্গে একমত নন।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর মাইক পম্পেও এক টুইটার বার্তায় বলেন, ‘ট্রাম্প এ বিষয়ে পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জোর করে রাশিয়া পাঠানো হবে না।’

হেলসিংকিতে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুতিন এ প্রস্তাব তুলেছিলেন। সেখানে পুতিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে যে ১২ রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না? জবাবে পুতিন জানান, তিনি রাশিয়ার ভূখণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেবেন। কিন্তু এর বিনিময়ে মার্কিন নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিতে হবে। সেখানে অবশ্য ট্রাম্প তাত্ক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, ‘অবিশ্বাস্য প্রস্তাব’। সূত্র : সিএনএন, এএফপি।

 

 



মন্তব্য