kalerkantho


ঘুম থেকে উঠেই মন্দিরে থাই কিশোররা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঘুম থেকে উঠেই মন্দিরে থাই কিশোররা

তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় বাইরে থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো নিজেদের বাড়িতে ঘুম ভাঙল থাই কিশোর ফুটবলারদের। ঘুম থেকে উঠে ওদের অনেকেই স্থানীয় মন্দিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে। সংবাদমাধ্যম এ কথা জানিয়েছে।

লুয়াং গুহায় আটকে পড়া ১২ কিশোর ও তাদের ২৫ বছর বয়সী ফুটবল কোচকে ১৭ দিন পর উদ্ধার করে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চিয়াং রাইয়ের হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আরো এক সপ্তাহ রাখার পর তাদের বুধবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আনা হয়। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনের পর তারা পরিবারের কাছে ফিরে যায়।

ওই সংবাদ সম্মেলন দেশজুড়ে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের হাসতে ও রসিকতা করতে দেখা গেছে। জলমগ্ন থাম লুয়াং গুহার বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেওয়ার সময় একে অন্যের সঙ্গে সংহতি বিনিময় করতেও দেখা গেছে তাদের। কিশোর দলটির বেশির ভাগ সদস্যের বাড়িই মিয়ানমার সীমান্তবর্তী মায়ে সাই জেলায়।

বুধবার বাড়ি ফেরার পর বেশির ভাগ কিশোরকেই চোখে জল ও মুখে হাসি নিয়ে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানায় অপেক্ষারত স্বজনরা। ঘরে প্রবেশের সময় তাদের দেওয়া হয়েছে জলের আশীর্বাদ।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েকজন কিশোর ও তাদের স্বজনরা মায়ে সাইয়ের প্রাচীন ওয়াত ফা থাট দোই ওয়াও মন্দিরের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। গোপনীয়তা রক্ষায় সাংবাদিকদের মন্দিরের ভেতরে কিশোর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি।

বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে কিশোররা জানায়, ফুটবল প্রশিক্ষণের পর গুহার ভেতর ঘণ্টাখানেক কাটানোর পরিকল্পনায়ই ২৩ জুন থাম লুয়াং গুহায় কোচকে নিয়ে প্রবেশ করেছিল তারা। যদিও বর্ষার পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ পানি ঢুকে গেলে সেখানেই আটকে পড়তে হয় তাদের।

কোনো খাবার না থাকায় কেবল পানি খেয়েই ৯ দিন কাটাতে হয়। এর পরই উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয় তাদের। গুহা থেকে বের হওয়ার পথ বের করতে পালাক্রমে গুহার দেয়ালও খুঁড়েছিল ওই কিশোররা। ‘আমরা স্টেলেকলাইট থেকে চুইয়ে পড়া পানি খেয়েছি। প্রথম দিন আমরা সুস্থই ছিলাম। কিন্তু দুই দিন পর থেকে আমরা ক্লান্ত হতে শুরু করি।’ শক্তি ধরে রাখতে কোচ একাপল চান্থাওং তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও জানায় ১৬ বছর বয়সী কিশোর পর্নচাই কামলুয়াং।

ওই সংবাদ সম্মেলনে দলটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য তিতান বলে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে দৃঢ় করেছে, শিখিয়েছে কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’ উদ্ধার অভিযানে প্রাণ হারানো ডুবুরি কুনানের স্মরণে কিশোররা শিক্ষানবিশ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছে বলেও বুধবার তাদের কোচ একাপল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

 

 

 



মন্তব্য