kalerkantho


পাকিস্তানের সেনা-আইএসআইকে হাইকোর্টের নির্দেশ

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থার ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে আসা প্রভাবশালী সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইকে চমকে দেওয়ার মতো এক সুস্পষ্ট আদেশ জারি করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। গত বুধবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সেনাবানিহীর প্রধান ও গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধানকে দেশের অন্যান্য বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে এ আদেশ দেন।

বিচারপতি শওকত আজিজ সিদ্দিকী আদেশটি জারি করেন। দুই সহোদরের নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণ হিসেবে এই আদেশ প্রদান করেন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই প্রভাবশালী জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। ধারণা করা হয়, ওই দুই ভাই একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গুম হয়েছেন।

পাকিস্তানে ‘রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রের’ অস্তিত্ব নিয়ে যে ধারণা প্রচলিত আছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি সিদ্দিকী বলেন, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনীর এ ধরনের প্রভাব সরকার ও বিচার বিভাগকে ব্যবহারের চক্রান্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট কয়েকজন বিচারকের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই জানেন কিভাবে (আদালত) আইনি বিষয়গুলো ব্যবহার করা হয়, কোথা থেকে সুতা টানা হয় এবং কখন ক্ষমতার ব্যবহার বা ফায়দা হাসিলে চাল দেওয়া হয়।’

বিচারপতি সিদ্দিকী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এই নির্দেশনা সেনাবাহিনীর প্রধান ও ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালককে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, গোপনীয় সংস্থাগুলোর এটা অনুধাবন করার দরকার রয়েছে যে তাদেরকে সংবিধানের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।

আদেশে আরো বলা হয়, ‘গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পাকিস্তান রাষ্ট্রের সংস্থা। অতএব তাদের উপলব্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে যে তাদের নিজেদের মৌলিক আইন এই দেশের আইনের প্যারামিটার সংবিধানের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। তাদেরকে অবশ্যই অন্যান্য সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, যেমন বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, গণমাধ্যমসহ অন্যান্য বিভাগ, যাদের প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে কিছুই করার নেই।’

বিচারপতি সিদ্দিকী একই সঙ্গে সেনাপ্রধানকে এ ব্যাপারে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা আশা করা যায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ স্তর থেকে কোমল ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তাদের সংস্থাগুলো দেশের অন্য সংস্থাগুলোর বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে এবং আইনসিদ্ধ নয় এমন অপ্রকাশ্য শাসন থেকে বিরত থাকবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানের বিচার বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। অন্যথায় আমরা আমাদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো জবাব দিতে পারব না, যা হবে নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।’ সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন (পাকিস্তান)।

 



মন্তব্য