kalerkantho


খাপছাড়া বন্ধুত্ব!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



একজন যুক্তরাষ্ট্রের এবং অন্যজন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। দুজনই রাষ্ট্রনায়ক এবং উভয় পক্ষের আগ্রহের ভিত্তিতেই আজ তাঁরা ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকিতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। কিন্তু ব্যক্তি ও রাজনীতিক হিসেবে তাঁদের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিল অনেক বেশি। এ দুই নেতার অতীত-বর্তমান উভয় বিচারে তাঁদের মধ্যে অনেক পার্থক্য।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্ম তৎকালীন লেনিনগ্রাদের এক শ্রমজীবী পরিবারে। তরুণ বয়সে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগদানের পর একটু একটু করে এগিয়েছেন তিনি এবং পৌঁছেছেন আজকের অবস্থানে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের এক ধনাঢ্য আবাসন ব্যবসায়ীর ঘরে জন্মেছেন। বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ ডলার ধার নিয়ে ওই একই ব্যবসায় নামেন তিনি, যদিও ধারের ওই অঙ্কটা তাঁর ভাষায় ‘খুব সামান্য’। বাবার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বদৌলতে তিনি নিজেও আজ এক ধনকুবের।

বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পর্কের সূত্রে ট্রাম্প সব সময় প্রচারের আলোয় থেকেছেন। এখন সেই জগৎ ছেড়ে এলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সব সময় বিতর্কিত মন্তব্য করে এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি একেবারে খোলামেলা প্রকাশ করে নিজেকে প্রচারের শীর্ষে রাখার চেষ্টা তাঁর অব্যাহত আছে। এর বিপরীতে কেজিবির সাবেক কর্মকর্তা পুতিন আগে পেশাগত স্বার্থে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন, আর এখনো ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশে সব সময় সতর্ক থাকেন। নিজস্ব অনুভূতি প্রকাশের সময় ভুরু উঁচিয়ে কথা বলার চেয়ে বেশি কিছু করা তাঁর ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। তা ছাড়া মতপ্রকাশের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আশ্রয় নেওয়া দূরে থাক, সঙ্গে স্মার্টফোন পর্যন্ত রাখেন না এই রুশ নেতা। তিনি বরং এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সহায়তা নিতে পছন্দ করেন।

ট্রাম্প যে শুধু নিজের প্রচার চালান, তা নয়। গোটা পরিবারকে নিয়ে তিনি আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন। অথচ পুতিনের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। জনসম্মুখে তাঁর দুই মেয়ের ছবি প্রায় কখনোই প্রকাশ পায়নি।

হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেও পুতিনের মধ্যে সেটার জমকালো প্রকাশ নেই। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প একদম বিপরীত। নিউ ইয়র্কে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছানোর জন্য তিনি যে লিফট ব্যবহার করেন সেটা সোনায় মোড়ানো। সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প যতটা দাবি করেন, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ততটা নয়, বরং কয়েক শ কোটি ডলার কম।

হালনাগাদ ও প্রয়োজনীয় তথ্যে নিজেকে ভরপুর রাখার জন্য পুতিন নিয়মিত বিভিন্ন দলিল-দস্তাবেজ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন আর নানা সংবাদ সম্মেলনের সারাংশে চোখ বোলাতে থাকেন। কিন্তু ট্রাম্পকে প্রয়োজনীয় খবর জানানোর জন্য রীতিমতো বেগ পেতে হয় তাঁর উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠজনদের।

এ দুই নেতার মধ্যে মিল যে একেবারে নেই, তা নয়। এই যেমন উভয়েই কর্তৃত্ববাদী ব্যক্তিত্ব এবং তাঁরা মনোযোগ কাড়তে আর বিস্ময় উপহার দিতে খুব পছন্দ করেন।

পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুই দেশের এ দুই নেতার মধ্যে পার্থক্যের পাল্লা বেশি ভারী হওয়া সত্ত্বেও আজকের বৈঠকটা ভালোভাবেই এগোবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যক্তিত্ব আর চরিত্র বোঝার ক্ষেত্রে নিজেকে অবিশ্বাস্য রকমের দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করেছেন পুতিন। আমার মনে হয়, মানুষের দুর্বলতা খুঁজে বের করার ব্যাপারে তাঁর বিশেষ দক্ষতা আছে। তিনি ট্রাম্পের প্রশংসা করবেন এবং সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করার মতো করে তিনি ট্রাম্পের বন্ধন তৈরির চেষ্টা চালাবেন। ট্রাম্প সেই কৌশলে সাড়া দেবেন।’ আর সম্পর্ক গড়ার জন্য বাকি পথটা ঠিকমতো এগোবে তাঁদের মধ্যকার অল্প কিছু মিলের কারণে। সব মিলিয়ে এ দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বন্ধুত্বের প্রবল সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : এএফপি।

 

 



মন্তব্য