kalerkantho


ভারতে এবার অস্ত্রের মুখে পাঁচ নারী সমাজকর্মীকে গণধর্ষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ভারতে এবার অস্ত্রের মুখে পাঁচ নারী সমাজকর্মীকে গণধর্ষণ

ভারতে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাঁচ নারী সমাজকর্মীকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গ্রাম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করল একদল দুষ্কৃতকারী। মানবপাচারবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালাচ্ছিলেন ওই সমাজকর্মীরা। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটে পূর্বাঞ্চলীয় ঝাড়খণ্ড রাজ্যের খুনতি জেলায়। ধর্ষকরা ওই নারীদের ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হয়নি। সেই ঘটনা ভিডিও করেছে এবং তাদের হুমকি দিয়েছে এই বলে যে তারা যদি এ ঘটনা পুলিশকে জানায়, তবে ওই ভিডিও চিত্র ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ভারতে সর্বশেষ সবচেয়ে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের ঘটনা এটি।

২০১২ সালে নয়াদিল্লিতে এক নারীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর সেখানে অকস্মাৎ গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনা ভারতের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।

সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী রাঁচি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের খুনতি জেলার আদিবাসী কোচাং গ্রামে নারীপাচার নিয়ে সচেতনতা অভিযানে গিয়েছিল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির ১১ জনের একটি দল। তাঁরা পথনাটিকা করছিল। অভিযোগ, সে সময় একদল দুষ্কৃতিকারী আচমকাই সেখানে হাজির হয় এবং গালাগাল করতে শুরু করে তারা। হুমকি দেয়, তাদের অনুমতি ছাড়া কেন এসব সরকারি প্রকল্প নিয়ে গ্রামে ঢুকেছে তারা। দুষ্কৃতকারীদের আচরণের প্রতিবাদ করতে গেলে সমাজকর্মীদের শুরু হয় মারধর। পুরুষ সমাজকর্মীদের ব্যাপক মারধরের পর নিজেদের প্রস্রাব খেতে বাধ্য করা হয়। এর পরই মহিলা সদস্যদের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতকারীরা। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাদের গাড়িতে করে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে দুষ্কৃতকারীরা। শুধু তা-ই নয়, গোটা ঘটনার ভিডিও বানানো হয় বলে অভিযোগ। প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখার পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় অনেক গ্রামবাসীই সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখায়নি বলেও দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির এক সদস্য। গত বুধবার ঘটনাটি সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য পুলিশ। তড়িঘড়ি বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে তারা। রাঁচিতে ডিআইজি অমল ভি হোমকার জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আলাদা আলাদা তিনটি দল গঠন করে দুষ্কৃতকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। এই ঘটনায় ৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে অশ্বিনী কুমার সিনহা নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা গেছে, ওই পাঁচ নারীকেই ধর্ষণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারা পাতালগড়ির সমর্থক। পাতালগড়ি আদিবাসী সমর্থকরা মনে করে, তারা তাদের নিয়মে তাদের সমাজে জীবন যাপন করবে। সেখানে পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো আইন খাটবে না। তাদের বক্তব্য, ভারতের সংবিধানই নাকি এই অধিকার দিয়েছে তাদের। অনুমতি ছাড়া তাদের অঞ্চলে প্রবেশের অধিকার নেই কোনো পুলিশ অথবা সরকারি কর্মীর। সূত্র : দ্য হিন্দু।



মন্তব্য