kalerkantho


উনের বেইজিং সফর সমাপ্ত

এখনো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চীন!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



এখনো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় চীন!

দুই দিনের চীন সফর শেষে দেশে ফিরেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর এ সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকের ঠিক এক সপ্তাহ পরই উন এ সফর করলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে চীন এখনো গুরুত্বপূর্ণ এক খেলোয়াড়—উনের বেইজিং সফরের মধ্য দিয়ে এ ধারণাই আরো জোরালো হলো।

গত চার মাসে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন উন। আর এমন একসময়ে তিনি বেইজিং গেলেন, যখন বাণিজ্য নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা একই সঙ্গে চলবে। এমনকি পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) কোনো ধরনের অসহযোগিতা করলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পিয়ংইয়ংকে সত্যিকারার্থে কতটুকু নিস্তেজ করতে পারে, তা নির্ভর করবে চীনের ওপর। বিশ্লেষকরা বলছেন, উনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে চিনপিং পরোক্ষভাবে এ হুঁশিয়ারিই দিলেন, ট্রাম্প তাঁর কঠোর বাণিজ্যনীতি থেকে সরে না এলে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং শান্তিপ্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জ্বালানিবিষয়কমন্ত্রী বিল রিচার্ডসন সিএনএনকে বলেন, ‘আমি মনে করি, চীন ট্রাম্পকে এ বার্তা দিতে চায় যে—আপনি (ট্রাম্প) কি আমাদের ওপর শুল্ক আরোপও করতে চান, আবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে সহযোগিতাও চান? কিন্তু একই সঙ্গে আপনি দুটি জিনিস পাবেন না।’

চিনপিং অবশ্য প্রকাশ্যে বলেছেন যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনায় চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে ওয়াশিংটন-বেইজিং উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে। গত সোমবার ট্রাম্প ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বসাতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নওয়ার্ট চীনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ইস্যু গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের মিশ্র সম্পর্ক রয়েছে। ‘এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেগুলোতে আমরা চীনের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করি। আবার এমন অনেক ইস্যু আছে, যেগুলোতে তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ রয়েছে।’

বারাক ওবামার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ছিলেন মিনতারো ওবা। তিনি জানান, বাণিজ্য উত্তেজনা উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে এখনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে চিনপিংয়ের মধ্যে অসহযোগিতামূলক মনোভাব দেখা যেতে পারে।

মিনতারে ওবা মনে করেন, উন এখন কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত করার চেষ্টা করছেন। কারণ সম্পর্ক যত বাড়বে, সমাধানের উপায়ও তত বাড়বে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে শুধু চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়লে সবাই ভাববে, পিয়ংইয়ং পুরোপুরি বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। আবার চীনকে বাদ দিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকলেও উনের সমস্যা আছে। কারণ ট্রাম্প তখন নানা ক্ষেত্রে তাঁর ওপর নির্ভার হয়ে চাপ প্রয়োগ করতে পারবে। এ কারণে উন এখন কোর্টের দুই পাশেই খেলবেন।’ সূত্র : সিএনএন।

 



মন্তব্য