kalerkantho


অবস্থান পাল্টালেন ট্রাম্প

সীমান্তে পরিবারের কাছ থেকে শিশুদের আলাদা করা হবে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সীমান্তে পরিবারের কাছ থেকে শিশুদের আলাদা করা হবে না

সীমান্তে অবৈধ অভিবাসী পরিবারের শিশুদের মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা ঠেকাতে কিছুই করার নেই, এমন দাবি করার পরদিনই বিপরীতমুখী এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিশুদের যেন মা-বাবার কাছ থেকে আলাদা করা না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে গত বুধবার তিনি নির্বাহী আদেশটিতে সই করেন।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটা নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করছি। আমি এটাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশ হিসেবে নিচ্ছি। এটা যেমন পরিবারগুলোকে এক রাখবে, তেমনি আমাদের শক্তিশালী সীমান্তও নিশ্চিত করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে শিশুদের আলাদা করে ফেলা হচ্ছে। অবিরত কাঁদতে থাকা শিশুদের যেখানে রাখা হচ্ছে, সেটাকে খাঁচার সঙ্গে তুলনা করছে সংবাদমাধ্যমগুলো। এ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, কংগ্রেসের কাছে তাঁর হাত বাঁধা। অথচ পরদিন বুধবার তিনি এক নির্বাহী আদেশে সই করেন, যেখানে সীমান্তে অবৈধ অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিএনএন অবশ্য বলছে, শিশুদের বিচ্ছিন্নকরণ ঠেকাতে কোনো নির্বাহী আদেশে সই করার প্রয়োজন প্রেসিডেন্টের ছিল না। তিনি শুধু ফোন করেই এসংক্রান্ত আদেশ বলবৎ করতে পারতেন।

ট্রাম্পের এ আদেশ পেন্টাগনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার ওপর প্রযোজ্য হচ্ছে। সে অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আবাসের ব্যবস্থা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এটাও সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো কারণে শিশুর কল্যাণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধভাবে প্রবেশ করতে থাকা অভিবাসী পরিবারগুলোর সঙ্গে শিশুদের রাখা হবে না। এসব পরিবারের আইনি প্রক্রিয়ায় প্রাধান্য দেওয়ার কথাও নির্বাহী আদেশে বলা হয়।

ট্রাম্পের এ নির্বাহী আদেশে শিশুদের স্পর্শকাতর বিষয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আদেশটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কোনো পরিবারকে শিশুসহ অনির্দিষ্টকাল আটক রাখার মতো পরিস্থিতিতে এ ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুসারে কোনো শিশু ২০ দিন কারাবন্দি থাকলে তাকে ছেড়ে দিতে হবে।

সীমান্তে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে শিথিলতা দেখানো কিংবা কড়াকড়ি আরোপ, দুটিই সংকটের বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘উভয়সংকটটা হলো, আপনি যদি দুর্বল হন, তাহলে এ দেশ কোটি কোটি মানুষে ভরে যাবে। আর আপনি যদি শক্ত হন, তাহলে আপনার হৃদয় বলে কিছু থাকে না।’ এমন সংকটে নিজের অবস্থান সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বরং শক্তই থাকতে চাইব।’

প্রেসিডেন্ট যত কঠোরই হন না কেন, সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তাঁর গত বুধবারের সিদ্ধান্তের পেছনে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ক্রিসজেন নিয়েলসেনের ভূমিকা আছে। এ দুজনই পারিবারিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করে গেছেন এবং এর প্রভাবেই তিনি গত বুধবারের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সূত্র : সিএনএন।

 



মন্তব্য

abid commented 27 days ago
Firsy ill educated and ill maner president