kalerkantho


রাজ্যপালের শাসন জম্মু ও কাশ্মীরে

দ্রুত নির্বাচনের দাবি ওমর আবদুল্লাহর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে অবশেষে রাজ্যপালের শাসন জারির অনুমতি দিলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) ও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার পর বিরোধী দল ন্যাশনাল কনফারেন্স কিংবা কংগ্রেস কেউই সেখানে সরকার গড়ার আগ্রহ দেখায়নি। ওই দিন রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে রিপোর্ট পাঠান জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপাল এন এন ভোরা। রাজ্যপালের শাসন জারির সুপারিশ করেন তিনি। তাতে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরে যাওয়ার কথা।

রাষ্ট্রপতির সম্মতি মেলার পর রাজ্যপাল এন এন ভোরাই এখন হবেন জম্মু ও কাশ্মীরের শাসক। এ নিয়ে চতুর্থবার এই দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর আগে ২০০৮, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে রাজ্যপালের শাসন সামলেছেন তিনি। দ্বিতীয়বার রাজ্যপাল পদের মেয়াদ শেষ হতে তাঁর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাতত ২৬ আগস্ট অমরনাথ যাত্রার সমাপ্তি পর্যন্ত তিনি রাজভবনেই থাকছেন।

সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি শাসনকে অনুসরণ করেই চলবে রাজ্যপালের শাসন। আর তাতে পিছিয়ে যেতে পারে বিধানসভা নির্বাচন। তবে রাজ্যপালের শাসনের বদলে রাষ্ট্রপতির শাসন আনতে গেলে পার্লামেন্টের সম্মতি লাগবে।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে যত শিগগির সম্ভব নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তাঁর অভিযোগ, কাশ্মীরে সরকার গড়ার খেলায় সংসদ সদস্য কেনাবেচা করতে পারে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরকে একহাত নিয়ে ওমর আরো জানান, সংসদ সদস্য কেনাবেচার ইঙ্গিত ইতিমধ্যে দিয়েছেন সদ্য সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা কবিন্দর গুপ্তা। সংবাদমাধ্যমের সামনে গতকাল ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘এখনই নয়া সরকার গঠন হবে বলে মনে হচ্ছে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হোক। সদ্য সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী নিজেই একপ্রকার ঘোড়া কেনাবেচার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করে ফেলেছেন।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে জম্মু-কাশ্মীরে জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব। সঙ্গে জোট ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস, হিংসা এবং মৌলবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপত্যকায় মানুষের মৌলিক অধিকার বিপদে রয়েছে।’ ঈদের আগের দিন উপত্যকায় সাংবাদিক সুজাত বুখারি ও এক সেনা সদস্য খুন হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রাম মাধব বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা ও সংহতির মতো বৃহৎ স্বার্থ মাথায় রেখে বলতেই হয়, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সে কারণেই আমরা সরকার থেকে সরে এসে রাজ্যের ভার গভর্নরের হাতে তুলে দিতে চেয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানের সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন পুরোপুরি থামানোর জন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি। কিন্তু পিডিপি তাদের কথা রাখতে পারেনি।’

এর পরই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় আসন ৮৭টি। পিডিপি ও বিজেপি যথাক্রমে ২৮ ও ২৫টি আসন নিয়ে জোট সরকার চালাচ্ছিল। সূত্র : পিটিআই, দ্য হিন্দু।

 



মন্তব্য