kalerkantho


সিরিয়ার পূর্ব গৌতায়

‘বেইসমেন্ট থেকে বের হওয়া মানে আত্মহত্যা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সরকারি বাহিনীর অবরোধ, খাবার-পানি-ওষুধ-বিদ্যুতের অভাব, বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সব কিছুর মধ্যেও সিরিয়ার পূর্ব গৌতার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সরকারি বাহিনীর হামলার তীব্রতা শেষমেষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আর কোনোভাবেই পড়ালেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। বেইসমেন্টে বসে থাকাই এখন জীবন। পড়ালেখা দূরে থাক, খাবার আনার জন্যও বের হওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে। কেননা সব সময় চারপাশে বোমা পড়ছে।

২০১৩ সাল থেকে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব গৌতার ৭০ শতাংশের বেশি এখন সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বিদ্রোহীরা কোণঠাসা হয়ে পড়লেও সরকারি বাহিনীর হামলা এখনো বন্ধ হয়নি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে সেখানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর হামলা চলছে, সঙ্গে রয়েছে রাশিয়ার সমর্থন। এতে নিহত হয়েছে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ। পূর্ব গৌতার চারপাশটা সরকারি বাহিনী ঘিরে রাখায় সেখানকার পরিস্থিতি আগে থেকেই অমানবিক। এখন সেই পরিস্থিতি সহ্যের বাইরে চলে গেছে।

২২ বছরের মাজেদ দাস কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়ছিলেন। তাঁর চেষ্টা শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। কোনো উপায় না দেখে বন্ধু আর বয়সে বড় অন্যদের কাছ থেকে কমিউটার প্রগ্রাম ও সফটওয়্যার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। একটু একটু করে বিষয়গুলো রপ্ত করে তিনি হাই স্কুলের পরীক্ষা দিয়েছেন এবং বেশ ভালো ফল করেছেন। তারপর শুরু হয় ইন্টারনেটে পড়ালেখা। বাড়িতে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ইন্টারনেটের দোকানে বসে একেক সেশনে প্রায় তিন ডলার খরচ করে তিনি পড়তে থাকেন। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই বলে সপ্তাহে পাঁচ ডলারের বিনিময়ে অন্য জায়গা থেকে ল্যাপটপ চার্জ দিয়ে তাতেও চালাতে থাকেন পড়ালেখা। দুই মাস আগে আমেরিকান অনলাইন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব পিপলসে দুটি কোর্সে ভর্তি হন মাজেদ। এত কষ্টের অগ্রগতি থেমে যায় মাঝপথে। গত মাসে সরকারি বাহিনীর হামলা প্রচণ্ড বেড়ে যাওয়ায় ভর্তি বাতিল করে ঘরে বসতে বাধ্য হন মাজেদ।

একই পরিস্থিতির শিকার বাসাম ইউসেফ। কম্পিউটার সায়েন্সের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মেদ নিজার আরবাশের অবস্থাও ব্যতিক্রম কিছু নয়। স্বজনদের নিয়ে বেইসমেন্টে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। চারপাশে সব সময় যেভাবে বোমা পড়ছে, তাতে বের হওয়া মানেই আত্মহত্যার দিকে এগোনো। সূত্র : আলজাজিরা।

 

 


মন্তব্য