kalerkantho


বালির সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যের পাহাড়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বালির সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যের পাহাড়

পামগাছে ঘেরা বালি দ্বীপের স্ফটিক স্বচ্ছ পানি সারা বিশ্বের লাখ লাখ পর্যটককে কাছে টানে। এর পরিচিতি আছে অভিজাত সামুদ্রিক জীবনের জন্যও। তবে বর্তমানে সেখানকার পানির তলদেশে প্লাস্টিক বর্জ্য জমে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

এ দ্বীপের মান্টা পয়েন্ট নিয়ে চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ সাঁতারু রিচার্ড হর্নার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। এতে পানির নিচে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য দেখা যায়, যা সেখানকার নান্দনিকতা নষ্ট করছে।

এই পরিস্থিতি ইন্দোনেশিয়ার বর্জ্য সমস্যাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সমস্যাটি এত প্রকট হয়েছে যে বালির কর্মকর্তারা গত বছর ‘আবর্জনা নিয়ে জরুরি’ অবস্থা ঘোষণা করেছে। এর আওতায় জনপ্রিয় জিম্বারান, কুটা ও সেমিনাক সৈকতসহ উপকূলের ছয় কিলোমিটার এলাকা পড়েছে।

রিচার্ড হর্নার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সমুদ্রের স্রোত আমাদের জেলিফিশ, প্ল্যাংকটন, পাতা, বৃক্ষশাখা, ডাল, লাঠি ইত্যাদির একটি সুন্দর উপহারে দেয়... ওহ এবং কিছু প্লাস্টিক।’

তাঁর ভিডিওতে দেখা যায়, মান্টা পয়েন্টে বোতল, কাপ ও খড়কুটোর মধ্য দিয়ে একজন সাঁতার কাটছেন। এই পয়েন্টটি বালির মূল পয়েন্ট থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

হর্নার বলেন, ‘প্লাস্টিক ব্যাগ, আরো প্লাস্টিক ব্যাগ, প্লাস্টিক, প্লাস্টিক, এত্ত প্লাস্টিক!’

ইন্দোনেশিয়ায় ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ আছে। সামুদ্রিক ধ্বংসাবশেষের জন্য দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। বছরে এর পরিমাণ প্রায় ১.২৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এই অবস্থার জন্য দেশটির বিপুল জনসংখ্যা (২৬ কোটির বেশি) এবং দুর্বল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামো দায়ী।

ইন্দোনেশিয়ার নদী ও সাগরে প্লাস্টিকের ‘প্রবল বন্যা’ বহু বছর ধরে সমস্যা তৈরি করেছে। শহরের জলপথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এমনকি প্লাস্টিক প্যাকেটে আটকে পড়ে সামুদ্রিক প্রাণীদের হতাহতর ঘটনা ঘটছে।

বালির উদয়না বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক পরিবেশবিষয়ক গবেষক আই গেড হেন্ড্রাওন বলেন, ‘ছোট প্লাস্টিক দিয়ে মাছ সংক্রমিত হতে পারে। যা মানুষ খেলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যে সমস্যা হতে পারে।’

বালির আবর্জনা সমস্যা বর্ষকালে প্রকট আকার ধারণ করে। এ সময় তীব্র বাতাসে ভরা নদীর বর্জ্য সমুদ্রতীরে চলে যায়। এনজিও কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের গবেষক ইভান দিওয়ান্তামা বলেন, ‘সম্ভবত বৃষ্টিপাতের কারণে মান্ট পয়েন্টে আবর্জনা বেড়ে যায়। কারণ বৃষ্টির কারণে বর্জ্য ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রে চলে যায়।’ তবে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থার সমুদ্র পরিচ্ছন্নতা প্রচারাভিযানের অধীনে জাকার্তা কাজ করছে। তারা ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্র থেকে ৭০ শতাংশ প্লাস্টিকের বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য