kalerkantho


সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি

শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডি জেলায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জেরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক দোকানের কাছে গতকাল টহলরত পুলিশ কমান্ডো। ছবি : এএফপি

শ্রীলঙ্কায় ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। দেশটিতে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের পুরনো সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সম্প্রতি চাঙ্গা হয়ে উঠলে দুজন নিহত হয় এবং গত সোমবারও ক্যান্ডি জেলায় সহিংসতা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রীলঙ্কার তিন দশকের গৃহযুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই জরুরি অবস্থা জারি ছিল। এরপর এই প্রথমবারের মতো দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো।

সরকারের মুখপাত্র দয়াসিরি জয়াসেকারা গতকাল বলেন, ‘দেশের অন্যান্য জায়গায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে যারা সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।’

ক্যান্ডি জেলায় যে সহিংসতা চলছে, সেটা সংঘবদ্ধভাবে করা হচ্ছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহ। এটা ঠেকাতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

শ্রীলংকার পূর্বাঞ্চলে গত মাসের শেষ নাগাদ এক মুসলিম রাঁধুনির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি সিংহলিদের কাছে বিক্রি করা খাবারে গর্ভনিরোধক মিশিয়েছেন। এ নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনায় ওই জেলার পূর্বাঞ্চলে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং একটি মসজিদে হামলা হয়।

এ সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি উচ্ছৃঙ্খল জনতার হামলায় নিহত হয়। অভিযোগ ওঠে, মুসলিমদের হামলায় ওই সিংহলি প্রাণ হারিয়েছে। এ ঘটনার পর মুসলিমদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে কট্টরপন্থী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা আরো সহিংসতা চালায়। ক্যান্ডি জেলায় শৃঙ্খলা ফেরাতে গত সোমবার সান্ধ্য আইন জারি করার পরও ওই রাতে সহিংসতা চলে। অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে যাওয়া এক বাড়ি থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এক মুসলিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ক্যান্ডি জেলার চরম সহিংসতা যেন দেশের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে গতকাল সরকার ১০ দিনের জন্য সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। সহাবস্থান বিষয়কমন্ত্রী মানো গনেসান বলেন, ‘আমরা চাই না সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব আর ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ুক।’

শ্রীলঙ্কার মোট জনগণের ৭৫ শতাংশ সিংহলি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের। সংখ্যালঘু মুসলিমদের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব পুরনো। প্রায় তিন দশকের গৃহযুদ্ধ ২০০৯ সালে শেষ হওয়ার পর থেকে সে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের শ্রীলঙ্কাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলান কিনান জানান, ২০১২ সাল থেকে বিশেষত, গত বছর এপ্রিল থেকে মুসলিমদের ওপর মৌলবাদী বৌদ্ধদের হামলা প্রায় নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়। তিনি বলেন, ‘সিংহলি ও বৌদ্ধরা মনে করে, শ্রীলঙ্কা সিংহলি ও বৌদ্ধদের দ্বীপ এবং অন্যান্য সম্প্রদায়, মুসলিম আর তামিলরা তাদের ওপর বোঝা।’ সংখ্যাগরিষ্ঠদের এ মনোভাব শ্রীলঙ্কায় সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বের অন্যতম এক কারণ বলে মনে করেন কিনান। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।



মন্তব্য