kalerkantho


সিরিয়া নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ বাধবে কি?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ এখন এমন এক জটিল অবস্থায় পৌঁছেছে যে বড় শক্তিধর দেশগুলো সেখানকার নানা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্য দিয়ে প্রক্সি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে; কিন্তু পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, এবার কি পরাশক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ বেধে যাবে?

বিবিসির সেবাস্টিয়ান আশার লিখছেন, সিরিয়ার সরকার এবং তার বিরোধীদের মধ্যে যে সংঘাত থেকে এই সংকটের সূচনা হয়েছিল—তা এখন প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। দেশটি এখন পরিণত হয়েছে নানা শক্তির পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ক্ষেত্রে। বাইরের যেসব শক্তি আগে কূটনীতির পথে ছিল, তারা এখন সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে নেমে পড়েছে।

রাশিয়া আর ইরান হচ্ছে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জড়িত—আর্থিক, সামরিক, রাজনৈতিক সব দিক থেকেই। যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত কম জড়িত—কিন্তু এ কারণেই সিরিয়ার ঘটনাবলির ওপর তাদের স্পষ্ট বা নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা নেই। তুরস্ক হচ্ছে আরেকটি জড়িত দেশ; কিন্তু তারা বিদ্রোহীদের সমর্থন করলেও কুর্দিদের ঠেকাতে বেশি আগ্রহী। দক্ষিণে আছে ইসরায়েল—তারা লেবাননের ১৬ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় যেমন, তেমনি সিরিয়ার ক্ষেত্রেও প্রধানত নীরব ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা সিরিয়ায় কথিত ইরানি ঘাঁটি এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র সরবরাহের মতো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতেই আক্রমণ সীমিত রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, কুর্দি, এমনকি বাশার আল-আসাদের সরকার, এদের প্রত্যেকেরই স্বার্থ অপরের বিপরীত; কিন্তু প্রক্সি বাহিনীর মাধ্যমে তৎপরতা চালানোর কারণেই তাদের সরাসরি সংঘাত হয়নি। শুধু ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মোকাবিলা করার সময়ই তারা তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে একসঙ্গে কাজ করেছে; কিন্তু ইসলামিক স্টেটের পরাজয়ের ভেতর দিয়ে পরিস্থিতিতে এক নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে কুর্দিরা আইএসকে তাড়ানোর সময় আরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে—আর তা তুরস্ককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। রাশিয়া এবং ইরান সিরিয়ার গভীরে তাদের অবস্থান পাকা করে ফেলেছে, যার পাশাপাশি আসাদের বাহিনী নতুন নতুন এলাকা পুনরুদ্ধার করছে। ইসরায়েল দেখছে যে হিজবুল্লাহ এবং ইরান তার সীমান্তের আরো কাছাকাছি চলে এসেছে, যা তাকে সতর্ক এবং অপেক্ষাকৃত সক্রিয় করে তুলেছে।

এ অবস্থায় এমন ঝুঁকি আছে পেছন থেকে যে শক্তিগুলো সুতা নাড়ছে তারাই সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়ে কি না। তা হবে ঘটনাপ্রবাহের এক খুবই বিপজ্জনক মোড় বদল। পেছনের শক্তিগুলো অতীতে এ রকম সম্ভাবনা দেখা দিলেও সব সময়ই সংঘাত থেকে পিছিয়ে এসেছে; কিন্তু এ জন্য খুব আশ্বস্ত হওয়া যায় না। যদিও এ রকম যুদ্ধের কথা শুনতে অদ্ভুত শোনাতে পারে; কিন্তু গত কিছুদিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। কয়েক দিন আগেই সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। ইসরায়েলি আকাশসীমার ভেতরে একটি ইরানি ড্রোন ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একটি রিপোর্টে খবর পাওয়া গেছে যে মার্কিন-কুর্দি ঘাঁটির দিকে এগোনোর সময় মার্কিনিদের হাতে কয়েকজন রুশ ভাড়াটে সেনা নিহত হয়েছে। তুরস্ক সিরিয়ান কুর্দিদের ওপর হামলা শুরু করেছে—যাতে তারা সরাসরি আমেরিকানদের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে, যদিও তারা আবার ন্যাটোর মিত্র। সূত্র : বিবিসি।



মন্তব্য