kalerkantho


মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপে ১৩ রুশ অভিযুক্ত

নিজের জয় ভাবছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগে ১৩ রুশ নাগরিককে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে তিনটি রুশ প্রতিষ্ঠানও। তদন্তে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভাজন তৈরি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে তারা ২০১৪ সাল থেকে গোপনে কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। অবশ্য তদন্তে এও বলা হয়েছে, তাদের ওই কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে আপাতত কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এদিকে এফবিআইয়ের এই প্রতিবেদনকে নিজের জয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই অভিযোগপত্রই প্রমাণ করে যে রুশদের গোপন কর্মসূচির সঙ্গে তাঁর প্রচারণাদলের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল কি না—কয়েক মাস ধরেই বিষয়টি তদন্ত করছিলেন এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার। মার্কিন বিচার বিভাগ তাঁকে এ দায়িত্ব দেয়। এ অবস্থায় গত শুক্রবার তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন মুলার। মুলারের অভিযোগপত্রে রাশিয়ার ১৩ নাগরিক ও তিন প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে পরিচয় গোপন করার অভিযোগ।

৩৭ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পাশাপাশি মার্কিন রাজনীতিতে একটা বিভাজন তৈরি করা। এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালে কাজ শুরু করে তারা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্তরা মার্কিন নাগরিক সেজে তহবিল খোলে এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে। এরপর ওই গ্রুপের সদস্যরা মার্কিন নাগরিক সেজে টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিতে থাকে। অনেক পোস্ট ছিল ট্রাম্পের পক্ষে এবং হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে। এভাবে ওই গ্রুপের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারদলের ‘অলিখিত’ একটা যোগাযোগ ঘটে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই গ্রুপের সদস্যরা এ বাবদ প্রতি মাসে (সাড়ে ১২ লাখ ডলার) মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করত। এ ছাড়া নিজেদের পরিচয় লুকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট সার্ভারে বড় জায়গা কিনেছিল তারা।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, শুরুর দিকে গ্রুপটি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের দুই প্রতিযোগী টেড ক্রুজ ও মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। এরপর তারা কাজ করে ট্রাম্পের পক্ষে। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রতিযোগী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাও তাদের বড় একটি লক্ষ্য ছিল।

মুলারের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গ্রুপটি নিজেদের সফলতাও পর্যবেক্ষণ করত। এসব তারা করত রাশিয়ায় বসে। তবে তাদের কয়েকজন একাধিকার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। এমনকি ট্রাম্পের পক্ষে ফ্লোরিডা, নিউ ইয়র্ক ও নর্থ ক্যারোলাইনায় সমাবেশ করতে অর্থায়নও করে তারা। গ্রুপটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলমানদের ভোটদানে বিরত থাকার ব্যাপারে উৎসাহী করত।

অভিযোগপত্রটি সামনে আসার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রড রোসেনস্টেইন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে কোনো মার্কিন নাগরিকের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ওই গ্রুপটি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলেও কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগপত্রকে কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছেন। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা শুরু করে ২০১৪ সালে; অর্থাৎ আমি প্রেসিডেন্ট হওয়ারও অনেক আগে। তাদের সঙ্গে আমার নির্বাচনী দলের কোনো যোগাযোগও ছিল না। এ ছাড়া নির্বাচনের ফলে গ্রুপটি কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।’

এদিকে মুলারের অভিযোগপত্রকে ‘অসম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘মাত্র ১৩ জন মিলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে? হাজার হাজার কোটি ডলারের বাহিনীর (মার্কিন) বিরুদ্ধে মাত্র ১৩ জন? অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও গুপ্তচরবৃত্তির বিরুদ্ধে মাত্র ১৩ জন? অসম্ভব? হ্যাঁ, অসম্ভব। কিন্তু এটাই আধুনিক আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা।’ সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য