kalerkantho


ভালোবাসা ব্যাংক...

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভালোবাসা ব্যাংক...

পয়সাকড়ি জমানো কিংবা গয়নাপত্রের লকার সুবিধার জন্য সচরাচর ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু প্রেমপত্র বা ভালোবাসার স্মারক জমানোর জন্য ব্যাংকিং সুবিধা! হ্যাঁ, সেটিই হয়েছে স্লোভাকিয়ার মধ্যযুগীয় এক ছোট্ট শহরে। ভ্যালেন্টাইন্স ডে’তে যুগলরা সেখানে ভালোবাসা জমানোর সুযোগ পেয়েছেন। তাছাড়া সেখানে আছে ‘লাভ-ও-মিটার’, যেখানে ভালোবাসা পরিমাপ করা যায়।

‘মারিনা’ নামের একটি কবিতাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রেমের কবিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওই কবিতার প্রতি শ্রদ্ধাপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই ‘লাভ ব্যাংক’ নির্মাণ করা হয়েছে। ১৮৪৬ সালে প্রকাশিত ২৯১০ লাইনের ‘মারিনা’ কবিতাটির রচয়িতা আন্দ্রেজ স্লাদকোভিচ। দরিদ্র আন্দেজ ছিলেন বানস্কা স্তিয়াভনিকাস এলাকার মারিনার গৃহশিক্ষক। ধীরে ধীরে শিক্ষক-ছাত্রী ভালোবাসায় জড়ান। তখন আন্দ্রেজ ও মারিয়ার বয়স চৌদ্দর কোঠায়। বিন্তু বাধসাধল মারিনার বাবা-মা। তারা মেয়েকে ধনী জিঞ্জারব্রেড মেকারের সঙ্গে বিয়ে দেন। এর দুই বছর পর আন্দ্রেজ যাজক হন। বিয়ে করেন এক কেরানীর মেয়েকে। কবিতাটি স্লোভাকিয়া স্কুলে পড়ানো হয়ে থাকে।

মারিনার বাড়িটি এখন ‘ভালোবাসার কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাড়ির বেসমেন্টের লম্বা টানেলকে ভল্টে পরিণত করা হয়েছে। ১৭৪ বছরের পুরনো ‘মারিনা’ কবিতার প্রতিটি বর্ণ, শূন্যস্থান ও বিরামচিহ্ন অনুপাতে সেখানে এক লাখ ছোট্ট ড্রয়ার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আয়োজন করা হয়েছে এক প্রদর্শনীর।

প্রদর্শনীর মুখপাত্র ক্যাটারিনা জাভার্স্কা বলেন, ‘ব্যাংকে প্রথম ডেটের প্রেমপত্র, রিং কিংবা সিনেমার টিকেটের মতো স্মারক সারাজীবনের জন্য রাখা যাবে। এটি সতিই নিরাপদ, সুরক্ষার জন্য বিশেষ সিল ব্যবহার করা হয়। একমাত্র জমাকারীই দেখতে পারবে ভেতরে কী আছে।’

‘লাভ-ও-মিটারের প্রযুক্তি সম্পর্কে জাভর্স্কা বলেন, ‘এটি খুবই গোপনীয় বিষয়। এতে মারিনাদের সঙ্গে নিজেদের ভালোবাসা তুলনা করা যায়। এজন্য হাত ধরে থাকেতে কিংবা চুমু খেতে হয়, আর অপর হাত বিশেষ হ্যান্ডেলে রাখতে হয়।’ তিনি বলেন, রোমিও-জুলিয়েটের প্রেম একটি ফিকশন কিন্তু আন্দ্রেজ-মারিনার গল্পটি নিখাদ বাস্তবতা।

সূত্র : বিবিসি ও দ্য হিন্দু।


মন্তব্য