kalerkantho


ইরানে বিরোধীদের বিক্ষোভ নিস্তেজ, রাস্তায় হাজারো সরকার সমর্থক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানে বিরোধীদের বিক্ষোভ নিস্তেজ, রাস্তায় হাজারো সরকার সমর্থক

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরে সরকারপন্থীদের মিছিল। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এ সপ্তাহের মাথায় অনেকটাই থিতিয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। বরং এদিন রাস্তায় নামে হাজার হাজার সরকার সমর্থক। রাজধানী তেহরানের রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতিও অনেকটা কমে এসেছে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাসহাদ শহর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। নিহত হয় ২১ জন। রাজধানীতে গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সাড়ে ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার অল্প কিছু বিক্ষোভের খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম।

গতকাল আহভাজ, কারমানশাহ, গোর্গানসহ বেশ কয়েকটি শহরে সরকার সমর্থকরা মিছিল করে। তারা ‘নেতা, আমরা প্রস্তুত’ এবং ‘নেতার জন্য রক্ত দেব’ স্লোগান দেয়। এ সময় তাদের হাতে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি ও ‘রাষ্ট্রদ্রোহীদের মৃত্যু হোক’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ‘শত্রুপক্ষের’ ইন্ধন ছিল, খামেনি এমন দাবি করলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ইরানের জনগণের বিক্ষোভ ‘স্বতঃস্ফূর্ত’। খামেনির দাবির বিপক্ষে অভিমত দিয়েছে ইরানের মানুষও। ৫৪ বছর বয়সী নারী সুরাইয়া সাদাত বলেন, ‘আমি একমত নই। মানুষ এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে তারা আর কর্তৃপক্ষের চাপ সইতে পারছে না। তারা ফেটে পড়েছে এবং এখন রাস্তায় নেমেছে।’

অর্থনৈতিক সংস্কারের অঙ্গীকার করে ২০১৩ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারেননি। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণুচুক্তি করার পরও তিনি দেশের মানুষকে অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বাস্তবতা হলো, ইরানে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১২ শতাংশ। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০ শতাংশ।

অর্থনৈতিক দুরবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে ইরানের গৃহবন্দি নেতা মেহদি কারাউবির ছেলে মোহাম্মদ তাগি কারাউবি টুইট করেছেন, ‘দেশের শোচনীয় অবস্থা কর্মকর্তাদের অবশ্যই স্বীকার করা উচিত।’ সূত্র : এএফপি।

 



মন্তব্য