kalerkantho


আরববিশ্বের অক্ষমতায় ধিক্কার সাধারণ মানুষের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফিলিস্তিনিদের অধিকার উপেক্ষা করে ইসরায়েলের হাতেই জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্পণ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ঘটনার পর আরব বিশ্বের সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে নিষ্ফল আস্ফাালন দেখে ভীষণ ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা।

অধিকারবঞ্চিত ফিলিস্তিনিরা তো বটেই, আরব বিশ্বের আরো অনেক বুদ্ধিজীবী তাঁদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ফিলিস্তিনি কবি ও লেখক মুরিদ বারগুতি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘জেরুজালেমকে তো সেদিনই হারিয়েছি, যেদিন সাদাত সেখানে যান এবং যেদিন আপনারা সবাই অসলো নিয়ে নাচানাচি করেছেন। ’

বারগুতির ক্ষোভের এ ভাষা বুঝতে হলে একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হয়। ১৯৬৭ সালে সিরিয়া, মিসর ও জর্দানের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। এক দশকের ব্যবধানে ১৯৭৭ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ইসরায়েলের সঙ্গে মিত্রতা নিশ্চিত করে নেন এবং ইসরায়েল সফরের অংশ হিসেবে তিনি জেরুজালেমেও যান, যা আদতে ইসরায়েলের দখলদারিকে স্বীকৃতি দেওয়ার নামান্তর বলে মনে করেন সমালোচকরা।

আর অসলো চুক্তির প্রতি বারগুতির ক্ষোভের কারণ হলো ১৯৯৩ সালে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইনিয়ান লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) পরস্পরের অস্তিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নেয়।

জেরুজালেম ঘোষণার পর আরব নেতাদের ব্যর্থ অতিকথনের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে কুয়েত ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল্লাহ কে আলসাইজি টুইটারে লেখেন, ‘হায় রে আরব আর মুসলিম, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনায় বলিভিয়া নিরাপত্তা পরিষদের (জাতিসংঘ) জরুরি বৈঠক আহ্বান করবে। এমন বৈঠক ডাকার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের আরব প্রতিনিধিরা কোথায়?’ গত বুধবার ট্রাম্পের ঘোষণা আসার পর দক্ষিণ আমেরিকান দেশ বলিভিয়া জানায়, তারা এ ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসানোর অনুরোধ করবে।

আরব বিশ্বের অক্ষমতাকে ব্যঙ্গ করে গাজাভিত্তিক লেখক মোহামদ নাশওয়া লেখেন, ‘(জেরুজালেম ঘোষণায়) আরবরা যে কিছুই মনে করবে না, সে ব্যাপারে খোঁজখবর না নিয়ে এবং ব্যাপারটা নিশ্চিত না হয়ে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন না।

আর আরবরা যদি কিছু মনে করেও, তারা এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারবে না। ’

সামাজিক নৃবিজ্ঞানী আব্দুল্লাহ হামিদাদ্দিন লেখেন, ‘আরব আর মুসলিমদের এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প আর বললেন, চুপচাপ সেটা মেনে নিতে। তিনি দেয়াল বরাবর জাতিসংঘের ২৪২ নম্বর প্রস্তাব ছুড়ে মারলেন আর জোর দিয়ে বললেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে আছে। ’ ১৯৬৭ সালের ২২ নভেম্বর নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত ২৪২ নম্বর প্রস্তাবে ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনে ‘দখলি ভূমি’ থেকে সশস্ত্র বাহিনী সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। সশস্ত্র বাহিনী সরানোর কথা বলা হলেও ওই প্রস্তাবে ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিটি রাষ্ট্রের’ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথাও উল্লেখ করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে কার্যত মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যে একটা ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সূত্র : আলজাজিরা।


মন্তব্য