kalerkantho


সিয়েরা লিওনে ভূমিধস

আন্তর্জাতিক সাহায্যের আকুল আবেদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



আন্তর্জাতিক সাহায্যের আকুল আবেদন

সিয়েরা লিওনে ভূমিধসে নিহতদের মৃতদেহের অপেক্ষায় কনাট মর্গের সামনে স্বজনরা। ফ্রিটাউন থেকে গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৪০০ লোকের মৃত্যুর পর সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় এখনো ছয় শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট আরনেস্ট বাই করোম মঙ্গলবার অশ্রুসজল চোখে এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা কামনা করেন। তিনি ওই দিন ভূমিধসকবলিত রাজধানী ফ্রিটাউনের পশ্চিমাঞ্চলীয় রিজেন্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এলাকাটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আমাদের জরুরি সাহায্য দরকার।’

এরই মধ্যে ভূমিধসে প্রাণ হারানো লোকজনকে কবর দেওয়া শুরু হয়েছে। বিদেশি সরকারগুলোও সাহায্য দিতে শুরু করেছে। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই পরিষ্কার পানি, ওষুধ, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, কী পরিমাণ মানবিক ত্রাণ প্রয়োজন তার একটি হিসাব টানা হচ্ছে। একই সঙ্গে কলেরা, টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগ যেন ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তারা। জাতিসংঘের এক মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, ইন্টারন্যাশনার অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জরুরি তহবিল হিসেবে দেড় লাখ ডলার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

গত সোমবার ভোর রাতে টানা বর্ষণের কারণে রিজেন্টের পার্শ্ববর্তী পাহাড় ধসে পড়ে। এতে পুরো এলাকাটি তিন-চারতলা সমান কাদায় ঢেকে যায়। এই ভূমিধসে তিন সহস্রাধিক মানুষ গৃহহীন হয়েছে। তাদের জন্য সরকার জরুরি ত্রাণের ব্যবস্থা করছে।

স্থানীয় রেডক্রস কর্মকর্তা নাসির খান জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৩০০ লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে মর্গের সূত্র এই সংখ্যা ৪০০ বলে দাবি করে। ফ্রি টাউন সিটি কাউন্সিলের কর্মকর্তা সুলায়মান জাইনো পার্কার বলেন, দেড় শ লাশের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে শনাক্ত করার জন্য কবরগুলো চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পচা-গলা বা উদ্ধারের সময় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বহু লাশ কবর দেওয়া হয়েছে। কবর দেওয়ার সময় খ্রিস্টান ও মুসলমান দুই ধর্মের রীতিই পালন করা হয়েছে।

রেড ক্রস জানিয়েছে, তারা কাদার নিচে চাপা পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করতে হিমশিম খাচ্ছে। সংস্থার এক কর্মকর্তা আবু বাবার তারাওয়ালি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে আমাদের। আরো ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জীবিতদের মধ্যে নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না।’

স্থানীয় অধিবাসী আবুবকর মানসারা বলেন, ‘অন্ধকার রাতে ভূমিধসে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে এলাকাটি তলিয়ে যায়। পাহাড়ের ওপর অসম্পূর্ণ বহু বাড়িঘর ছিল। সেগুলোও ভেঙে নিচে চলে আসে।’ সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য