kalerkantho


জার্মানিতে মুসলমানদের শান্তি শোভাযাত্রা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০১৭ ০০:০০



জার্মানিতে মুসলমানদের শান্তি শোভাযাত্রা

জার্মানিতে মুসলমানদের শান্তি মিছিল। ছবি : এএফপি

সম্প্রতি ইউরোপে যেসব সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার বেশির ভাগ দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস)। ইসলামের নামে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা শনিবার জার্মানির কোলন শহরে শান্তি সমাবেশে মিলিত হয়। তবে জার্মানিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সংগঠন তুর্কি-ইসলামিক ইউনিয়ন ফর রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স (ডিটিব) সমাবেশে যোগ দেবে না বলে ঘোষণা দেওয়ায় সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে কি না, সেটা নিয়ে কারো কারো মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। সব উদ্বেগ ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ শেষ হয়েছে।

মূলত দুজন সাধারণ মানুষ এ সমাবেশের আহ্বান জানালে দ্রুতই তাতে সাড়া দেন জার্মানির মূলধারার কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং মুসলমানদের ছোট ছোট কয়েকটি সংগঠন। সমাবেশের আয়োজকদের যুক্তি হচ্ছে, যেহেতু সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতরা নিজেদের মুসলিম পরিচয়কে বড় করে দেখায়, তাই মুসলিমদেরও এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শক্ত প্রতিবাদ জানানো উচিত।

আর এমন সমাবেশের বিরোধিতাকারী তুর্কি সংগঠনটির যুক্তি হচ্ছে, এ ধরনের সমাবেশ আয়োজন করলে প্রথমে মুসলমানদের দায় দেওয়া হয়। এরপর প্রতিবাদ জানানো হয়। এটা করা উচিত নয়।  কেননা সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। পাশাপাশি রোজার সময় মুসলমানদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে এ ধরনের সমাবেশ করা উচিত নয় বলেও মনে করে জার্মানিতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এ সংগঠনটি।

কোলনের হয়মার্কটের সমাবেশে অংশ নেওয়া মুসলমানরা মনে করে, ‘রোজার মাসে আমাদের স্বাভাবিক জীবন তো থেমে থাকে না। চাকরি করি, ব্যবসা-বাণিজ্য করি, সব কাজ করি, প্রতিবাদ জানাতে আসলেই সমস্যা? সে যাই হোক, সমাবেশ উপলক্ষে আশপাশে ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

জার্মান পুলিশ সম্পর্কে একটা কথা বলা হয়, তারা সহজে নিজেদের উপস্থিতি দেখাতে চায় না। কিন্তু এ সমাবেশে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বিপুল পরিমাণ পুলিশ বেশ আগে থেকেই সমাবেশস্থলে হাজির ছিল। সমাবেশের মাঝে শোভাযাত্রাও বের হয়। যা কোলন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসে। এ সময়ও শোভাযাত্রার সামনে পেছনে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।

মুসলিম শান্তি শোভাযাত্রা ও সমাবেশে মুসলমানরা যেমন এসেছে, তেমনি ভিন্ন ধর্মের মানুষও এসেছে। অংশগ্রহণকারী মুসলমানদেরও সমাবেশে অংশগ্রহণের কারণে বৈচিত্র্য রয়েছে। আবার অংশগ্রহণকারীদের অনেকের মধ্যে দুটি জায়গায় মিলও রয়েছে। তারা সবাই বলতে চায়, ইসলাম শান্তির ধর্ম। সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অভিজ্ঞতার ফলে নেওয়া সিদ্ধান্তই তাদের সমাবেশে আসার কারণ হিসেবে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে জানিয়েছে।

সন্ত্রাসীরা সন্ত্রাসী, তারা হিন্দু, মুসলিম কিংবা নাস্তিক নয়, বলেন জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী প্রিয়াম।

ফ্রাংকফুট থেকে আসা ইমানের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, প্রাকটিসিং মুসলিম দেখলেই আশপাশের অনেক মানুষ তাদের এখন ‘সন্ত্রাসী’ মনে করে। তিনি এ ধারণার প্রতিবাদ জানাতে চান। এ ধারণা যে সত্য নয়, সেই  বার্তা সবাইকে দিতে চান। তাই তিনি এই সমাবেশ এসেছেন।

জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশি মো. বেলাল হোসেন তাঁর ১০-১২ বছরের ইউরোপের জীবনে কখনো মুসলমান হিসেবে বৈষম্যের শিকার হননি বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর ধারণা, মুসলমানদের নামে সন্ত্রাসী হামলা হলে তাদের ইমেজ খারাপ হয়ে যায়। এটা আর বাড়তে দেওয়া যায় না। এর বিরুদ্ধে মুসলমানদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকলে সন্ত্রাসীদের মতো দুর্বল হবে। এটা তাদের শক্তিকেও আঘাত করবে।

‘নেটওয়ার্ক ফর উইমেন’ নামের একটি সংগঠনের অ্যাকটিভিস্ট হেইদা বন থেকে এসে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পরিচিতদের অনেকে মুসলমান। কিন্তু তাদের মাঝে তিনি কোনো অস্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখেননি। এর পরও যখন মুসলমানদের সমষ্টিগতভাবে দোষ চাপানো হয়, তখন তিনি ব্যথা পান। এ কারণে তিনি এ ধরনের একটা সমাবেশের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সন্ধান পাওয়া মাত্রই ছুটে এসেছেন। ‘আমি এখানে এসেছি সেই সব মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে, যারা ধর্মের নামে সন্ত্রাস করছে’ বলেন রেহানা আক্তার। সূত্র : ডয়চে ভেলে।

 



মন্তব্য