kalerkantho


মারায়ির তাণ্ডবের পেছনে দুই ভাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জুন, ২০১৭ ০০:০০



মারায়ির তাণ্ডবের পেছনে দুই ভাই

মারায়িতে তাণ্ডব চালানো দুই ভাইয়ের একজন আব্দুল্লাহ মাউতে (ডানে)

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের শহর মারায়িতে মাসব্যাপী তাণ্ডবের পেছনে রয়েছে ওমর খৈয়াম ও আবদুল্লাহ মাউতে নামের দুই ভাই। ২০ বছর ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম শিক্ষা অর্জনের পর দুই ভাই মারায়িতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি দলের পতাকা নিয়ে ফিরে এসে এই তাণ্ডব চালিয়েছে, আগুন দিয়েছে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। মারায়ির বাসিন্দা হওয়ায় শহরটি তাদের নখদর্পণে থাকায় সহজে ধ্বংসাত্মক কাণ্ড করে যাচ্ছে। শহরের সুড়ঙ্গ ও বোমা থেকে সুরক্ষার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি সম্পর্কে তাদের জানাশোনার কারণে তাদের নাগাল পেতে সেনাবাহিনীকে নাকাল হতে হচ্ছে, অভিযানও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

মাউতে ভ্রাতৃদ্বয় কয়েক শ বন্দুকধারী নিয়ে মারায়িতে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। তাদের অনুসারীদের বেশির ভাগই স্থানীয় তরুণ, তবে বেশ কিছু বিদেশিও রয়েছে। মারায়িতে তারা দানসালান কলেজে তাণ্ডব চালিয়েছে। ফিলিপাইনে আইএস নেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে নৃশংস কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বিস্মিত স্থানীয়রা। মিন্দানাও অঞ্চলের আঞ্চলিক পার্লামেন্টের সদস্য জিয়া অ্যালোনতো অ্যাডিয়ং বলেছেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না তাদের এই ঘৃণাটা কোথা থেকে এসেছে।’ মিন্দানাও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ডুমা সানি বলেছেন, যারা তাদের ধর্মকে বিশ্বাস করে না, তাদের হত্যা করতে হবে—এমন নীতি বেশির ভাগ স্থানীয় মানুষ সমর্থন করে না। সানি আরো বলেছেন, ‘এই তরুণদের কাছে কোরআনের নিজস্ব ব্যাখ্যা রয়েছে এবং তারা তাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করে না।’

ওমর খৈয়াম মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে আবদুল্লাহ পড়াশোনার জন্য জর্দান গিয়েছিল। তাদের বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং মা নির্মাণ ও আবাসন উন্নয়ন কাজের সঙ্গে জড়িত। মাউতে মিন্দানাওয়ের বিশিষ্ট মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশ। মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের (এমআইএলএফ) একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। ম্যানিলাভিত্তিক ফিলিপাইন ইনস্টিটিউ ফর পিস, ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেররিজম রিসার্চের প্রধান রোমেল বানলই জানিয়েছেন, এসব বিষয় তাদেরকে বড় ধরনের নিরাপত্তা দিচ্ছে।

মারায়ির চলমান তাণ্ডব শুরুর পর ওমর খৈয়াম ও আবদুল্লাহ মাউতের বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করে তাদের মায়ের গ্রেপ্তারটা গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তিনি হয়তো তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করছেন। বানলই জানিয়েছেন, ওমর খৈয়াম ও আবদুল্লাহরা সাত ভাই। সম্ভবত তাদের সব ভাই বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত।

জাকার্তাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অব কনফ্লিক্টের পরিচালক জোন্স বলেছেন, ‘তাদের মা সন্তানদের এই কট্টরপন্থায় মূল ভূমিকা পালন করেছেন, তা বলা যাবে না। বরং তিনি এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়তো ওমর খৈয়াম ও আবদুল্লাহর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।’ জোন্স আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনে আইএসের নেতৃত্ব দিচ্ছিল আবু সায়াফ জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতা ইসনিলন হ্যাপিলন। তবে এ সময়ে কার্যকরভাবে সম্ভবত তা মাউতে ভ্রাতৃদ্বয়ের হাতে চলে গেছে। এখন তাদের মারায়ি থেকে বিতাড়িত করা হলেও এটা সত্য যে ফিলিপাইনে তারা সফলভাবে আইএসের ঘাঁটি স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছে। বিশেষ করে তাদের সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধাদের যোগ দেওয়ার কারণে এ কথা বলাই যায়। সূত্র : এএফপি।



মন্তব্য