kalerkantho


নেতানিয়াহুর ‘সেরা দেশরক্ষক’ খ্যাতিতে ভাটা পড়বে

গাজা যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিবেদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নেতানিয়াহুর ‘সেরা দেশরক্ষক’ খ্যাতিতে ভাটা পড়বে

ইন্দোনেশিয়া সফররত সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে গতকাল গলফ কার্টে (গাড়ি) করে জাকার্তার প্রেসিডেন্ট প্যালেসের প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখান ইন্দোনেশীয় প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। ছবি : এএফপি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গাজা যুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে তাঁর পদত্যাগের মতো ঘটনা হয়তো শেষ পর্যন্ত ঘটবে না; কিন্তু দেশের সুরক্ষায় সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর যে খ্যাতি রয়েছে, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনের হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরায়েলের ৬৮ সেনা সদস্য নিহত হয়।

সম্মুখযুদ্ধের মাধ্যমে নয়, গোপন সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসা হামাস যোদ্ধাদের অতর্কিত হামলায় তাদের বেশির ভাগ নিহত হয়। দুই বছরের তদন্ত শেষে ইসরায়েলের হিসাব অধ্যক্ষ জোসেফ শাপিরা এ ব্যাপারে প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে জালুন সুড়ঙ্গ হুমকির তথ্য জানা সত্ত্বেও মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সেটা জানাননি। রণকৌশলের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতেও এ দুজন ব্যর্থ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই বিরোধী শিবির নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।

বিরোধীপক্ষের এমন দাবির পরিণতি কত দূর গড়াতে পারে সে সম্পর্কে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিবেদক গিল হফম্যানের অভিমত, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠায় তাৎক্ষণিক প্রভাব হয়তো পড়বে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর সুনাম নষ্ট হবে। টানা আট বছর প্রধানমন্ত্রিত্ব করছেন নেতানিয়াহু। হফম্যান জানান, সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা প্রদানে নিজেকে সেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন এ রাজনীতিক। রাষ্ট্রীয় তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর সেই দাবিকে দুর্বল করে দেবে বলে মনে করেন হফম্যান।

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে হফম্যান বলেন, দুর্নীতির অভিযোগগুলো তাঁকে আরো দুর্বল করে দিচ্ছে এবং এ তদন্ত প্রতিবেদন সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে।

যুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ, সরকারপ্রধানের পদত্যাগের দাবি, পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা সত্ত্বেও দুর্নীতির অভিযোগে শেষমেশ পদত্যাগের ঘটনা আগে ঘটেছে এবং বিশ্লেষকরা সেটাই এখন স্মরণ করছেন। ২০০৬ সালে লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধে তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের ব্যর্থতার অভিযোগ এনে পরের বছরই একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই সময় বিরোধী দলের নেতৃত্বে থাকা নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের পদত্যাগের দাবি তোলেন এবং এ দাবিতে আন্দোলন করতে ইসরায়েলিদের উসকে দেন। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ ইসরায়েলি রাস্তায় নামার পরও প্রায় এক বছর ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন ওলমার্ট। দুর্নীতির অভিযোগে এক বছর তিনি পদত্যাগ করেন। সূত্র: এএফপি।


মন্তব্য