kalerkantho


গ্রাম বাংলার বিসর্জনের মেলায়...

সত্যজিৎ কাঞ্জিলাল   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৭:১৪



গ্রাম বাংলার বিসর্জনের মেলায়...

ছবি : কালের কণ্ঠ

দেবী দূর্গার শ্বশুরালয়ে গমনের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হয়ে গেল সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। পাঁচদিন ব্যাপী দুর্গাপূজা বাংলাদেশের শহরে যতটা চাকচিক্য আর জমকালো আয়োজনে উদযাপন করা হয়ে থাকে, গ্রামে ততটা নয়। কিন্তু গ্রামের আয়োজনে থাকে প্রকৃতি ও প্রাণের মেলবন্ধন। তাইতো পরিবার পরিজনের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটে যাওয়া। 

জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার ৭ নং সিধুলী ইউনিয়নের একপাশে অবস্থান মুজাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ১২৬ বছরের পুরনো এই বিদ্যাপীঠের মাঠে প্রতিবছর বসে বিসর্জনের মেলা। মাঠের পাশে সুবিশাল দীঘিতেই যুগের পর যুগ ধরে দুর্গামূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়ে আসছে। এক দশক আগেও এই মেলা জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হতো। এখন 'ডিজিটাল সংস্কৃতির চাপে পণ্যের পসার কমলেও কমেনি বিসর্জনের মেলার আনন্দ। 

মেলায় গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য, মাটির জিনিস, শিশুদের খেলনা এবং নারী পণ্য নিয়ে বসে গেছেন দোকানীরা। শহরের মতো সুসজ্জিত স্টলের সুযোগ এখানে নেই। তাই কেউ মাথার ওপর একটি ত্রিপল টানিয়েছে, আবার বেশিরভাগ দোকানী খোলা জায়গাতেই বসে গেছেন। চিনির তৈরি বিভিন্ন পশু-পাখির আকৃতিতে তৈরি সাজ, বাতাসা কিংবা পাটালি গুড়ের গজা বিক্রি হচ্ছে দেদার। 

মাঠে অস্থায়ী উনুন তৈরি করে ভাজা হচ্ছে 'গুলগুলি'। ময়দা দিয়ে তৈরি তেলেভাজা একটু নোনতা স্বাদের এই খাবারটি গোল বিধায় নাম হয়েছে 'গুলগুলি'। দামও বেশ সস্তা এবং শিশুদের খুব প্রিয়। বিকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। একটা সময় মাঠে পা ফেলার জায়গা থাকে না। গরম গরম জিলিপি কেনার ভিড়টা চোখে পড়ার মতো। আর নারী পণ্য বিক্রেতাদের আকর্ণ বিস্তৃত হাসি যেন থামছেই না। 

প্রচণ্ড ভিড়ের মাঝেও বাবার হাত ধরে এসেছে শিশুরা। অনেক নারীরা এসেছেন গৃহস্থালির পণ্য কিনতে। মাঠের একপাশে গান আর ঢাকের তালে তালে নেচে চলছে যুবকরা। দেবী দূর্গাকে বিদায় দেওয়ার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি। অনেক নারীরা সিঁদুর খেলায় মেতেছেন। পুলিশ আর আনসার বাহিনী খুব ধৈর্য্যসহকারে সব সামাল দিচ্ছে। সব মিলিয়ে অসম্ভব প্রাণচঞ্চল এক উৎসবের আবহ গ্রামের বিসর্জনের মেলায়। 

একটা সময় অনেক রাত পর্যন্ত এই মেলা চলত। কারণ বিসর্জন হতো রাত ৯টা-১০টার দিকে। কিন্তু এখন নিয়মের কড়াকড়ির জন্য সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়। তাই মেলাও বেশিদূর এগোয় না। দেবীকে বিদায় জানানোর পর মেলা ভেঙে যায়। দুহাত বোঝাই কেনাকাটা একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন হিন্দু-মুসলিমরা। মন খারাপের মাঝেও একটি আশা উঁকি দেয়, 'আসছে বছর আবার হবে'। ততদিন পর্যন্ত সুখে শান্তিতে থাক পৃথিবীর সকল মানুষ। বিনাশ হোক অশুভ শক্তির। 



মন্তব্য