kalerkantho


মজার যত গ্রাম্য খেলায় মাতল কাশিয়ানীবাসী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ২১:৩৫



মজার যত গ্রাম্য খেলায় মাতল কাশিয়ানীবাসী

বিভিন্ন গ্রাম্য খেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ। কাশিয়ানী উপজেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ পালন উপলক্ষে এসব গ্রাম্য খেলার আয়োজন করা হয়। গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে গ্রাম্য খেলার মধ্যে ছিল মাঠের মাঝখানে তৈলাক্ত কলাগাছ। উপরে ঝুলছে আম। কলাগাছ বেয়ে আম পাড়তে পারলেই সে জয়ী। 

এ খেলায় জয়ী হতে বেশ কয়েকজন কিশোর ও তরুণ বার বার চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হয়। এর মধ্যে যে বেশী উচুতে উঠতে পারল সে জয়ী হল। শুধু কলাগাছে ওঠা নয় পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হাঁস ধরতে নামলেন ৭/৮জনের একদল তরুণ প্রতিযোগী। সাঁতরে গিয়ে হাঁস ধরে আনতে হবে। হাঁস ধরতে পারলেই জয়ী সে। চেষ্ঠা করে সফলও হল তার মধ্যে কয়েকজন। 

এভাবেই গ্রাম্য খেলায় অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের চিত্ত বিনোদনের সুযোগ করে দিলেন খেলোয়াররা। শুধু কলাগাছ আর হাঁস ধরা নয়, সাথে ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের জনপ্রিয় লাঠি খেলা। কাশির বাদ্যের তালে নেচে গেয়ে লাঠি খেলেন একদল লাঠিয়াল। অন্যের লাঠির আক্রমন ঠেকিয়ে দেন অন্য লাঠিয়ালরা। এভাবেই কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের সামনের ফাঁকা জায়গায় আয়োজন করা হয় গ্রাম্য খেলার। এ খেলা দেখতে হাজারও দর্শকের সমাগম ঘটে। আগত মানুষ আনন্দের সাথে উৎসবের আমেজে উপভোগ করেন গ্রামীণ এসব খেলা।

আয়োজক ও কাশিয়ানী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল আলম মোরাদ জানান, 'একসময়ে গ্রাম্য নানা শিল্প-সংস্কৃতির প্রধান উপকরন হিসাবে খুবই আকর্ষনীয় ছিল লাঠি খেলা, কলাগাছ বেয়ে ওঠা, পুকুরে হাঁস ধরাসহ বিভিন্ন খেলা। কিন্তু উন্নয়নের সাথে সাথে এসব খেলা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামীন ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে ও আমরা বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে এইসব খেলার আয়োজন করি।'

লাঠি খেলতে আসা কাশিয়ানী উপজেলা পানিপাড়া গ্রামের গাজী আশরাফ, ও মুরাদ মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটিকে ধরে রাখতে ও দর্শকদের আনন্দ দিতে লাঠি খেলে থাকেন তারা। যদিও আগের মতো তারা ডাক পাননা। যে কারণে খেলাটি ধরে রাখা তাদের পক্ষে কষ্টকর। তারপরও বংশ পরমপরায় তারা এই লাঠি খেলা দেখিয়ে মানুষজনকে আনন্দ দিয়ে থাকেন। 

খেলা দেখতে আসা কাশিয়ানী উপজেলা সদরের কল্লোল মজুমদার, দ্বিব্য মজুমদার, কাশিয়ানী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা শিক্ষক আবুল বসার, শহিদুল ইসলাম খন্দোকার ও নাদিয়া খানম বলেন, হারিয়ে যাওয়া এসব গ্রাম্য খেলা দেখতে খুব ভালো লাগে। বর্তমানে আধুনিক খেলাধুলা হয়ে থাকে। গ্রাম্য খেলা দেখা দুরহ ব্যাপার। এখানে এসে বাংলা নববর্ষ যেন সার্থক হয়েছে।

নতুন প্রজম্মের অনেকেই আবার প্রথমবারের মত গ্রাম্য খেলাগুল দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন। গ্রামীণ এসব খেলা দেখতে পেয়ে খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান খান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলা টিকিয়ে রাখতে আগামীতেও এসব গ্রামীন খেলার আয়োজন করা হবে। সেই সাথে সরকারী-বেসরকারীও ব্যক্তি উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে নতুন ও ভবিষৎ প্রজন্মের কাছে এ ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন খেলাগুল ধরে রাখা সম্ভব হবে।



মন্তব্য