kalerkantho


বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখার উপায় বের করেছে যশোরের তরুণ-তরুণীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪৮



বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ধরে রাখার উপায় বের করেছে যশোরের তরুণ-তরুণীরা

বাংলাদেশের মানুষের মাঝে শান্তি ও সহনশীলতা বাড়ানোর উপায় বের করতে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশন ও ফেসবুকের সহযোগিতায় ‘ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ’ আয়োজন করেছিল ইউএনডিপি বাংলাদেশ। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সচেতনতা ও সহনশীলতা প্রচার ও বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধির ধারণা খুঁজে বের করাই এই চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য।

ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ’ ২০১৬-এর সাফল্যের পর এবার ডিসেম্বর ২০১৭-তে ঢাকায় এবং যশোরে আবার তিন দিনের ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি চালু হওয়া যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কে তিন দিনের আইডিয়া চ্যালেঞ্জের জন্য যশোর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ২০ জন তরুণ-তরুণীকে নির্বাচিত করা হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর তারা সেখানে একত্রিত হবার পর তাদের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয় এবং এরপর নিজেদের মধ্যে পরিচিত হবার জন্য তাদের সময় দেয়া হয়।

১৯ ডিসেম্বর চ্যালেঞ্জের শুরুতেই নির্বাচিতরা তাদের চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রাথমিক আইডিয়াগুলো ব্যাখ্যা করে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে তার ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করে। তাদের আইডিয়াগুলোকে কীভাবে সফল ও যৌক্তিক করা যায় এবং সেই আইডিয়াগুলোর কাছাকাছি নতুন কোনো আইডিয়া খোঁজার জন্য মেনটর ও এক্সপার্টগণ সারাদিন তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেন।

তরুণ-তরুণীদের ৪ জন করে ৫টি গ্রুপে ভাগ করে নির্ধারিত বিষয়গুলো নিয়ে তাদের দলগতভাবে চিন্তা-ভাবনা করে নতুন আইডিয়া খুঁজতে বলা হয়। মেনটরগণ প্রতিটি দলের সাথে আলাদাভাবে বসে তাদের তাদের ধারনাগুলো শোনেন এবং তাদের দিকনির্দেশনা দানের মাধ্যমে সহযোগিতা করেন। প্রতিটি দল দুটি আইডিয়া চূড়ান্ত করে মেনটরদের কাছে উপস্থাপন করে। এরপর মেনটররা তাদের আইডিয়া দুটি আরো শক্তিশালী ও বাস্তবায়নযোগ্য করতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জনের জন্য তাদের পরামর্শ দেন।

এরপর নির্দেশমতো দলগুলো তাদের প্রস্তাবিত আইডিয়া ও সমাধানগুলো পরিপূর্ণ করতে কাজ করে। এই পর্যায়ে আবারও মেনটরগণ তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন। আইডিয়া চূড়ান্ত হলে দলগুলো তা কীভাবে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করবে সে সম্পর্কে তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়, রিহার্সেলের মাধ্যমে তাদের ভয় ও জড়তা কাটিয়ে সহজ ও সুন্দর উপস্থাপনার জন্য তৈরি করা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ সরকারে আইসিটি ডিভিশনের বিচারক প্যানেলের সামনে দলগুলো তাদের আইডিয়াগুলো চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করে।

বিচারকগণ সকলে একমত হয়ে ‘থিংকার ফোর্ট’ দলকে বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করেছে। দলটি অতিরঞ্জিত ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও বিদ্বেষের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং অনলাইন ও অফলাইনে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি চমৎকার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

চিহ্নিত অন্যান্য সমাধানগুলোর মধ্যে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শান্তি-বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহমর্মীতার মূল্যবোধগুলোকে তুলে ধরার আইডিয়া দিয়েছে টিম ‘চ্যালেঞ্জারস’; অ্যানিমেটেড কার্টুনের মতো বিনোদনমূলক মাধ্যমগুলোতে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, অপ্রচলিত ঐতিহ্য, তাদের নেতিবাচক প্রভাব ইত্যাদি উপস্থাপনার মাধ্যমে অসহিষ্ণুতা ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে কাজ করবে টিম ‘পরিবর্তক’; অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘মুক্তির সংগ্রাম’ দলটি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের মাঝে একটি যোগসূত্র স্থাপন করে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে চায়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আইসিটি’র বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে একটি কমিউনিটি তৈরিতে কাজ করবে যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের উৎপাদনমুখী ও অর্থপূর্ণ জীবন গঠনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করবে।



মন্তব্য