kalerkantho


'বাঁচার জন্য খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নাই'

শেখ শাফায়াত হোসেন   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:০৩



'বাঁচার জন্য খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন নাই'

দেবজ্যোতি বোস সরোদ বাজান। গোলাম বন্দেগী খান বাঙ্গাস ঘরানার বাজিয়ে। সরোদ বাজিয়েছে প্রায় পৃথিবীর সব দেশেই। প্রথমবারের মতো বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসবে যোগ দিতে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসলেও এটা তার প্রথম বাংলাদেশে আসা নয়। এর আগে শিল্পকলায় ভারতী উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন বড় ভাই কুমার বোসের সঙ্গে। 

চার পুরুষ সংগীতের সঙ্গে জড়িত। বাবা বিশ্বনাথ বোস তবলার কিংবদন্তী ছিলেন। মা শ্রীমতী ভারতী বোস নিজের সংগীত জীবন উত্সর্গ করেছেন ছেলে-মেয়েদের সংগীত শিখতে উৎসাহ দিতে গিয়ে। বড় ভাই কুমার বোস তবলার দিকপাল। মেজো ভাই গান করেন, হারমোনিয়াম বাজান। দেবজ্যোতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। রোহেন বোস ও রুবিনা বোস। রোহেন তবলা বাজান, রুবিনা লেখাপড়াতে ঝুঁকেছেন, গানবাজনায় আসেননি। কিন্তু বাবা এক সময় পড়া লেখা বাদ দিয়ে গানে আসেন।
 
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সামনে আসেন এই গুনী শিল্পী। তবলায় হাতে খড়ি হলেও এখন সরোদকে ঘিরেই তার যত সাধনা। গান লেখেন, সুর করেন। চলচ্চিত্রে ব্যবহার হচ্ছে এসব গান। অ্যালবামও বের হয়েছে বেশ কিছু। সরোদে কিংবদন্তী ওস্তাদ আমজাদ আলী খাঁর কাছে দীক্ষা নিয়েছেন দেবজ্যোতি। 

বর্তমান স্বাস্ত্রীয় সংগীতের পুরধা অজয় চক্রবর্তী দেবজ্যোতিকে নিয়ে একটি জায়গায় বলেছিলেন, হাওয়াকে ছবি তৈরি করা হচ্ছে গান। গানকে যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করার একটা প্রবনাতা দেবজ্যোতির মধ্যে আছে। এটা নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করলে সে ভারতের সেরা একজন সরোদ বাদক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি।’ তবে এ কথা মানতে চান না দেবজ্যোতি। তিনি তাঁর গুরুকেই মাথায় করে রাখছেন। তিনি বলছেন, ‘আমার আফসোস নেই পদ্মশ্রী পদক পাইনি বলে। আমার আফসোস আমি আমজাদ আলী খাঁর মতো বাজাতে পারি না।’

কোলকাতার মানুষ। বাংলায়ই বললেন সব কথা। সংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে যাবার আগে হোটেলের লবিতে দাড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলার সুযোগ দিলেন। 

দেবজ্যোতির বক্তব্যে সংস্কৃতির থেকে অর্থনীতির বিষয়টিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছিলো। হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘অর্থনীতি এবং সংস্কৃতি দু’টো বিষয় কি আলাদা ? কোনোভাবেই আলাদা নয়। আপনাকে আমাকে সবাইকে খেয়ে পরে বাঁচতে হবে, সেটা তো অস্বীকার করছিই না। বাঁচা যদি কেবল শরীরের নিচের দিকটার জন্য হয় সেটাকে তো আর বাঁচা বলে না। উপরের দিকটার কথাও তো ভাবতে হবে।’ 

কালের কণ্ঠ পত্রিকা সম্পর্কে জানেন দেবজ্যোতি। বলছিলেন, এই কাগজের বড় একজনের সঙ্গে একবার তার পরিচয় হয়েছিলো। ইমদাদুল হক মিলন ? ‘হ্যা উনিই। একটা অনুষ্ঠানে কথা হয়েছিলো তাঁর সঙ্গে। তিনি তো সম্পাদক। আচ্ছা। 

এরপর আবার গানের কথায় এলেন। ওপার বাংলার ধ্রুপদী সংগীতের ওস্তাত-পণ্ডিতরা তো আপনার বেশ প্রশংসা করে বলেন আপনি তবলাটা ভালো বোঝেন বলে সরদটা ভালো বাজান। ‘সেটা ঠিক। কিন্ত মুশকিল হচ্ছে কি অন্য বিষয়গুলোতে তারা আমাদেরকে হজম করতে পারেন না।... আমার গুরুদেবের সঙ্গেই আমার কতো ঝামেলা লেগে যায়। তার অপারেশন হবে না। তার এতো টাকা! দিন দশ হাজার টাকা, অপারেশন তো হওয়া দরকার। হ্যাঁ কেনো দেবো, ঝামেলার জড়া লেগে যায়। বহুবছরের সম্পর্ক তো, ছেলের মতো হয়ে গেছে। কিন্তু পার্থক্যটা ওই যায়গায়। এখন আর পরোয়া করি না, বয়স তো ৫৭ হয়ে গেলো। আর তো নতুন করে কিছু পাওয়ার নেই।’ 

সরোদে রবীন্দ্রসংগীত বাজাতে ভালো লাগে দেবজ্যোতির। বললেন, ‘রবীন্দ্রনাথের রাগগুলো আমি বাজিয়েছি, গানগুলোও গেয়েছি।..ধ্বনিলো আহ্বানে আমার একটি অ্যালবাব আছে। এখানেও পাওয়া যায়। ফিরে দেখা নজরুলও করেছি। এতো সাড়া পেয়েছি। এবার বেঙ্গলের উত্সবে একটি রবীন্দ্রসংগীত বাজাবো। তবে আগেভাগে বলছি না যাতে আকর্ষনটা থাকে।’ 

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চাঙ্গসংগীত নিয়ে অনেক কথাই বলেন দেবজ্যোতি। মানুষ কেনো দূরে সরে যাচ্ছে সে বিষয়ে বলেন, ‘আমার কথা নয়, বড় বড় লোকের কথা- সংকটই হলো সৃজনশীলতার উত্স। আপনি যদি সংকটের মুখে নাই পড়েন, সৃজনশীলতা থেমে যাবে। ফ্রান্সে সংগীতকে জীবন বলে। কিন্তু এর থেকে যদি দূরে চলে যাই... আজকাল ধ্রুপদী সংগীত থেকে লোকজন দূরে চলে যাচ্ছে, বিতৃষ্ণা তৈরি হচ্ছে- এসব কারণেই। কোটিপতির বাড়িতেও যদি পুরোহিত মৌলবীরা আসে সে কিন্তু শ্রদ্ধা পায়। এখন পুরুত-মৌলবীও যদি বলে আমি মার্সিডিস ছাড়া চড়বো না তাহলে তো আর পার্থক্য থাকলো না। সবাইকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমি যেই কাজটি করি সেটিই আমার সম্মান।’ 

তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা হচ্ছে এখন আর্থ-সামাজিক কাঠামোটা যেদিকে চলে গেলো, রাষ্ট্র সেখালো যে শুধু টাকাই তোমাকে বাঁচাবে। এমন অনেক কিছুই আছে, সেগুলো যদি ভেবে দেখেন- মানুষ মারাটাই কে শেখালো ? সীমান্তের কাছে গেলে গুলি করে মারলে মালা পরাবে আর দেশের মধ্যে মারলে ফাঁসি দিয়ে দেবে এই ধারণাটাই এলো কোথা থেকে। তার অর্থ হলো, যেটাকে আমরা সভ্যতা বলছি সেটা আসলে কোনভাবেই সভ্যতা হচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুখজনক।’

‘খুব গুরুত্বপুর্ন দুটি কথা আমি বলতে চাই। একটি হচ্ছে যে, পড়ালেখার পরে এখনো বুঝতে পারিনি কেনো হিন্দুস্থান ধ্রুপদী সংগীত অথবা ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত। কারণ প্রায় ৬০ শতাংশ মূল বাংলাদেশের। আমার পূর্বপুরুষ, অক্ষয় কুমার বোস প্রথম তবলা বাজান আমাদের পরিবারে। আমি একমাত্র দলছুট, সরোদ বাজাই। কিন্তু আমারও শুরু তবলাতে। আমাদের পাশেই, যেখানে আমি থাকি শ্যামবাজারে, অনাথ বোস তার পুরো মূল বাংলাদেশ। তার বাড়িতেও ওস্তাদ বাদল খাঁ সাহেব সারেঙ্গী দীর্ঘ দিন বাজিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের। এনায়েত খাঁ সাহেবদের পরিবার বাংলাদেশের। বাবা আলাউদ্দিন - এতো। আমি জানি না, রাজনৈতিক কারণে ভাগাভাগি হলেও সংগীত তো এ রকম ভাগাভাগি করা যায় না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমাদের মার্গ সংগীতের আরেকটি ভালো বিষয় হলো যে সব পুর্বপূরুষরা এটি সৃষ্টি করেছেন তারা খুব অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগীত ও ছন্দ এক জায়গায় করেছেন। তাই মার্গ সংগীত একটি জায়গায় গিয়ে কোনো না কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ধন্যবাদ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে যে এতো চেষ্টা করছে, এতো লড়াই করছে। আমাদের ধারণা আমরা বাংলাদেশ থেকে অনেক ভালো ভালো শিল্পী পাবো যারা ভারতে এবং সারা পৃথিবীতে গানবাজনা করবে। আমরা রবীন্দ্রসংগীত নজরুল গীতিতে তো পেয়েইছি। আমি অনেক কাজ করেছে বন্যার (রেওয়ায়ানা চৌধুরী) সঙ্গে। ধ্রুপদী সংগীতেও অনেকে আছে যারা যাবে’- বললেন দেবজ্যোতি। 

গান গেয়ে জীবন ধারন নিয়ে দেবজ্যোতির বক্তব্য, ‘শুধু এখানে নয় তৃতীয় বিশ্বের কোনো জায়গাতেই অবকাঠামোটা এখনো এতো ভালো নয়, যে কেউ গানবাজনা করে ভাবতে পারে যে আমি টিকে থাকবো। সেক্ষেত্রে একটি যুক্তি আছে আমরা তো সবাইকে বিদ্যালয়ে পাঠাই, সবাই তো হুমায়ুন আহমেদ বা জগদীশচন্দ্র বসু হয়নি। তবুও তো পাঠাই। কারন এটা একটি শিক্ষাগত যোগ্যতা। সেরকম, সংগীত এবং ছন্দ যদি মানুষের মধ্যে না থাকে তবে আমরা কিন্তু প্রতিমূহুতে বলি একটা কাজ না করতে পারলে যে ‘তুই কি তালকানা’। অর্থাৎ ছন্দ সত্যি যদি মানুষের মধ্যে যায় তাহলে কিন্তু অনেক ছন্দময় হয়ে ওঠে জীবন। এবার পড়ে থাকলো টিকে থাকার কথা। প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে চেয়ারম্যানও থাকে আবার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীও থাকে। তো, কেনো গান গাইলে লতা মঙ্গেস্কার হতে হবে, কেনো রবিশংকর হতে হবে। আমরা তো পরিচিত নাম, অপিরিচিত নাম সারা ভারত-বাংলাদেশে যারা কেবল সংগীত শিক্ষা দিয়ে দুটো-তিনটে প্রজন্ম চালিয়ে দিলো তারা কি জনপ্রিয় নয়, তারা কি কিংবদন্তী নয়। মায়েস্ত্রো নয়। অর্থনৈতিক ভাবে কিন্তু তাদের কোনো সমস্যা হয়নি এবং সেই সংখ্যাটা অনেক বেশি। বাংলাদেশে সংখ্যাটি বলতো পারবো না কিন্তু আমি অনেককেই চিনি। ভারতে কিন্তু প্রচুর আছে। কথাটা এই জন্য বললাম, কিছু তো নিম্নপদে কাজ করে। তাহলে এটা কেনো ধরা যাবে না আমি এই ফ্যাকাল্টিতে আনন্দে কাজ করে বাঁচি। আমার হয়তো পরিসর ছোট। আমি তো আমজাদ আলী খাঁ নই। কিন্তু আমার তো বাঁচতে কোনো অসুবিধা হয়নি। সবই আছে।’ 

যখন কেউ সংগীত শিক্ষা নিচ্ছে কি নৃত্য শিক্ষা নিচ্ছে, সেই বিশ্বাসটা রাখতে হবে যে আমি একটা জিনিস যদি সঠিকভাবে শিখি তাহলে আমার অন্তত জীবীকার অভাব হবে না। এটা একটি খুব জরুরী বিষয়। যেটা আমাদের অনেক আগের প্রজন্ম থেকে বোঝানো উচিত ছিলো। যে ছেলে মেয়ে আছে, যারা বুঝতে পারি অনেক ভালো করবে ভবিষ্যতে, কিন্তু একটা বয়সের পর তাকে এতো চাপ দেওয়া হয় সে আর করতে পারে না। সে একটি চাকরিতে যোগ দেয়। 

সংগীত শেখার বিষয়ে অভিভাবকদের মানসিকতার উন্নয়নের কথা বললেন দেবজ্যোতি বোস। তিনি বলেন, বড়দের জন্য কিন্ডারগার্টেন স্কুল। ছোটদের কোনো সমস্যা নেই। যত আইন ভঙ্গ মন্দ কাজ যত কিছু, তা না হলে যেসব দেশে এতে মুনীঋষি জন্মেছে সেসব দেশে এতো খারাপ মানুষ হলো কি করে। 

প্রথমবারের মতো বেঙ্গল আয়োজিত উচ্চাঙ্গসংগীত উত্সব আসলেও এই আয়োজন সম্পর্কেও দেবজ্যোতি বোসের উচ্চ ধারণা। তিনি বলেন, এই মূহুর্তে এই অনুষ্ঠানটি কিন্তু পৃথিবীর বৃহত্তম অনুষ্ঠান। পৃথিবীর সব দেশ আমার ঘোরা হয়ে গেছে, কোথাও এমন হয় না। নিশ্চিয়ই শ্রোতা না থাকলে এটা হতো না। তার মানে এতো শ্রোতা কোথাও নেই। দ্বিতীয়ত, রাতের পর রাত জেগে এই যে গান শুনছে, ভারতে শিল্পীরাও আশা করে বসে থাকে যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যদি ডাকে তাহলে ভালো করে কিছু শোনাবো। অনেক সময় হয় কি, গানবাজানাটার একটু অবক্ষয় তো হয়েছে, স্রোতাদের কি ভালো লাগবে তার ওপরে অনেক শিল্পী কিন্তু বিচার করে গানবাজনা করে। কিন্তু সেটা এখানে ভাবতে হচ্ছে না। সকলে বলছে এখানে একদম শুদ্ধ যেটা ধ্রুপদী সংগীত সেটাকে উপস্থাপন করা যাচ্ছে। আমি অনেক অ্যালবাম করেছি। কিন্তু এবার আমি যে কাজটি করি (সরোদ বাদন) সেই কাজটি করতে এবার এলাম। 

আমি তবলার মানুষ অস্বীকার করবো না। আমার পরিবার ছিলো তবলার কিংবদন্তী। মার খুব ইচ্ছে ছিলো সেতার বাজাই। সংগীত, বেড়ে ওঠা, প্রতিষ্ঠা সবই মায়ের কারনে। মা'ই আমাদেরকে শিল্পী তৈরি করেছে। সেটা যদি না করতেন নিজেই অনেক বড় সংগীত শিল্পী হতে পারতেন। তিনি ওস্তাদ আকবর আলী খানের কাছে শিখেছেন। বাবা তবলা বাজাতেন, ব্যস্ত ছিলেন। আমাদেরকে অতো দেখতে পারেন নি। ছোট বেলা তবলা বাজাতাম। কিন্তু বাবা-মা চাইতেন না তিন ভাই-ই তবলা বাজাই। আমি চলে গেলাম সরোদে। মেজো ভাই হারমনিয়াম বাজায়, গান গায়। গান আমার ভালোবাসা। আমি জানি না কেনো আমার কাছে এতোজন গান শেখে। আমার প্রচুর গানের ছাত্র। বাংলাদেশেও আছে। কোনো আসে আমি জানি না। গান ভালো লাগে, সেজন্যই গাই। 

সরোদ কেনো বেছে নিলেন সেই প্রশ্নের জবাবে দেবজ্যোতি বোস বলেন, আমরা খুব ছোট বেলা থেকে আলী আকবর খাঁ এবং আমার গুরু আমজাদ আলী খাঁ সাহেবকে খুব কাছে পেয়েছি। মা ছাত্রী ছিলেন। বাবা অনেক বাজাতেন আলী আকবর খাঁর সঙ্গে। সেটা একটা কারন। আর আমার গুরুর প্রতি আমার প্রেম এতো ছোট বয়স থেকে যখন তিনি আমাকে গ্রহণ করতেই চাননি। কারন আমি তখন ভীষন ছোট। তিনি আমাকে যখন গ্রহণ করেছেন তখন আমার বয়স চৌদ্দ-পনেরো। তারপরে আমি তাঁর কাছে থেকে যাই, দিল্লীতে। তাঁর কাছে থেকে শিখেছি দীর্ঘদিন। অনেক সৌভাগ্য, আমাদের বাড়িতে আমরা ওস্তাদ রবিশংকর, আলী আকবর, বিলায়েত আলী খাঁ, আমজাদ আলী খাঁ সাহেব এই চারজন কিংবদন্তীকে আমরা এতো কাছে থেকে পেয়েছি এজন্যই হয়তো সরোদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। আমাদের বাড়িটা এমন একটা জায়গায় যেখানে সমস্ত কিংবদন্তীকে রাস্তার ওপর ফুটবলও খেলতে দেখেছি। 
  
জনপ্রিয়তার বিচার নিয়ে কথা বলছিলেন দেবজ্যোতি। সবাই পরিচিতদের কে মাতামাতি করছে। যারা সারা জীবন অসম্ভব ভালো কাজ করে যান তাদের কেউ আলাদা করেন না। যেটাকে ‘দুখজনক’ বললেন তিনি। দেবজ্যোতি বলেন, যেদিন এই স্টারডাম চলে যাবে সে দিন এই পৃথিবী অনেক বেশি সমৃদ্ধ হবে। 

তিনি মনে করেন, বাঁচার জন্য খুব কমই প্রয়োজন। কোনো রকম ত্যাগ স্বীকার না করেও মানুষের পাশে দাড়ানো যায়। না খেয়ে কাউকে খাওয়াতে বলছি না। কারণ এখন তো আর মার্গ সংগীত শিল্পীরা মার্গ সংগীত শিল্পী নেই তারা ধনকুবের হয়ে গেছে। তারা ইচ্ছে করলেই অনেক কিছু করতে পারে। 

কল্যাণমূলক একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন দেবজ্যোতি। তিনি বলেন, ‘আমরা গানবাজনা করি, যেটাকে উপলক্ষ করে টাকা ওঠে। সেই টাকাটা দিয়ে আমরা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের বীমা করে দিই যাতে তারা বিপদে আপদে বাঁচে।’ বন্ধুবান্ধব অনেককেই এমন কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহ দিয়েছেন দেবজ্যোতি বোস।

আজ আবাহনী মাঠে আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চঙ্গসংগীত উত্সবের ছষ্ঠ আসরের দ্বিতীয় দিনের শেষ আকর্ষন দেবজ্যোতি। জুগলবন্দী করকেন রুনু মজুমদারের বাশীর সঙ্গে। যোগেশ শামসী ও অভিজ্যিত ব্যানার্জ্জীও তবলা বাজাবেন।



মন্তব্য