kalerkantho


উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব

ঢাকা মাতাবেন কিংবদন্তিরা

নওশাদ জামিল    

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:০৫



ঢাকা মাতাবেন কিংবদন্তিরা

প্রকৃতিতে শীত জেঁকে বসার আলামত। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা প্রবলভাবে স্পষ্ট হবে। রাতভর বইবে হিমেল হাওয়া। আর সেই সময়টাতেই রাতের কুয়াশারাশি ভেদ করে রাজধানীর শেখ কামাল আবাহনী মাঠে ছড়িয়ে পড়বে উচ্চাঙ্গসংগীতের সুরলহরি। টানা পাঁচ রাত জেগে থাকবে ধ্রুপদী সংগীতসুধায় উন্মাতাল হয়ে। সুরের দোলায় মাতবে হাজারো দর্শক-শ্রোতা। ফাঁকে ফাঁকে থাকবে নৃত্যের ঝংকার।

এবারের বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজন নিয়ে কেটে গেছে অনিশ্চয়তার মেঘপুঞ্জ। আগামী ২৬ থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি শেখ কামাল আবাহনী মাঠে বসছে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের ষষ্ঠ অধিবেশন। এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামানকে। উৎসবে অংশ নেবেন দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পী, যন্ত্রী ও কলাকুশলীরা।

উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব আয়োজনের জন্য এবার নতুন ভেন্যু বরাদ্দ পাওয়ার পর বিস্তারিত দিনক্ষণ ও তথ্যাদি ঘোষণা করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী গতকাল রবিবার জানান, এবারের আয়োজনের উদ্বোধনে থাকছে ভারতীয় উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ফিউশন।

উচ্চাঙ্গসংগীত নিয়ে গত পাঁচটি আসর ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে সমঝদার শ্রোতার হৃদয়ে। আগের পাঁচটি উৎসবের আয়োজন হয়েছিল বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানেই ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর এবারের উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। কিন্তু সেখানে অনুমতি না মেলায় উচ্চাঙ্গসংগীতের বড় এ উৎসব আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ অবস্থায় গত ২২ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু বলেন, ‘এ বছর উৎসবটি হচ্ছে না। ’ গতকাল লুভা নাহিদ চৌধুরী জানান, উৎসব আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি তাঁরা শুরু করেছেন। এবার উৎসবে ভারতীয় উপমহাদেশের যে বিখ্যাত শিল্পীদের আসার কথা ছিল, তাঁদের প্রায় সবাই আসছেন।

থাকবে খ্যাতিমানদের পরিবেশনা : ষষ্ঠ বর্ষে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের পরিসর আরো বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। শুধু উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীত নয়, এর সঙ্গে যুক্ত করা হয় ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিক। উৎসবের প্রথম দিন মঙ্গলবার ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় কাজাখস্তান থেকে আসা ৫৮ সদস্যের আস্তানা সিম্ফনি ফিলহারমানিক অর্কেস্ট্রার সঙ্গে গ্র্যামি মনোনীত প্রখ্যাত বেহালাশিল্পী পদ্মভূষণ ড. এল সুব্রামনিয়ামের যুগলবাদন পরিবেশিত হবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চাঙ্গসংগীতের এই মহাযজ্ঞ।

পাঁচ দিনব্যাপী উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন মেওয়াতি ঘরানার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী পদ্মবিভূষণ পণ্ডিত যশরাজ (খেয়াল), ১৯৯৩ সালে গ্র্যামি বিজয়ী পণ্ডিত বিশ্বমোহন ভট্ট (মোহনবীণা), গ্র্যামি মনোনীত বিদুষী কালা রামনাথ (বেহালা), দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যামি বিজয়ী পদ্মভূষণ বিদ্বান ভিক্কু বিনায়করাম (ঘাটম), বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী সুজাতা মহাপাত্র, পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখার্জি (সেতার), পণ্ডিত কৈবল্যকুমার গুরভ (খেয়াল), সাসকিয়া রাও (চেলো), কত্থক নৃত্যদল অদিতি মঙ্গলদাস ডান্স কম্পানি প্রমুখ।

উৎসবে আলো ছড়াবেন বিদুষী পদ্মা তালওয়ালকার (খেয়াল), পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার (সরোদ), ড. মাইসোর মঞ্জুনাথ (বেহালা), পণ্ডিত রনু মজুমদার (বাঁশি), পণ্ডিত কুশল দাস (সেতার), পণ্ডিত দেবজ্যোতি বোস (সরোদ), রাকেশ চৌরাসিয়া (বাঁশি), পূর্বায়ণ চট্টোপাধ্যায় (সেতার), রাজরূপা চৌধুরী (সরোদ), আবীর হোসেন (সরোদ) প্রমুখ।

আয়োজনের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া, পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, ওস্তাদ রাশিদ খান, পণ্ডিত উল্লাস কশলকর, ওস্তাদ শাহিদ পারভেজ খান প্রমুখ। তবলায় সংগত করবেন পণ্ডিত অভিজিৎ ব্যানার্জি, পণ্ডিত শুভংকর ব্যানার্জি, পণ্ডিত যোগেশ শামসি প্রমুখ।

উৎসবে বিদেশি শিল্পীরা ছাড়াও বাংলাদেশের পাঁচজন প্রতিভাবান নবীন নৃত্যশিল্পী সুইটি দাশ, অমিত চৌধুরী, স্নাতা শাহরিন, সুদেষ্ণা শ্যামাপ্রভা, মেহরাজ হক তুষারসহ সরকারি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা (দলীয় সেতার, তবলা ও সরোদবাদন; সুপ্রিয়া দাসের খেয়াল; অভিজিৎ কুণ্ডুর ধ্রুপদ) এবং স্বনামধন্য শিল্পী ফিরোজ খান (সেতার) ও গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি) অংশগ্রহণ করবেন।

উদ্বোধন : আগামী ২৬ ডিসেম্বর ধানমণ্ডি আবাহনী মাঠে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আবাহনী লিমিটেডের সভাপতি সালমান এফ রহমান এবং স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী।

অংশগ্রহণের নিয়মাবলি : প্রতিবারের মতো এবারও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করে বিনা মূল্যে পাস সংগ্রহ করা যাবে। অংশগ্রহণ করা যাবে এই উৎসবে। রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর। অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে নিবন্ধনের কোনো সুযোগ নেই। রেজিস্ট্রেশন আগেই করতে হবে অনলাইনে। সেই পাস ও ফটো আইডি দেখিয়ে প্রবেশ করতে হবে উৎসব আঙিনায়। অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে গাড়ি রাখার কোনো ব্যবস্থা থাকছে না। প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান শুরুর পর রাত ১২টায় অনুষ্ঠানস্থলের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে। ওই সময়ের পর আর ভেতরে প্রবেশ করা যাবে না। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের উৎসবে না আনতে অনুরোধ করেছেন আয়োজকরা।

আয়োজনের সহযোগী : এবারের উৎসবের নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ এবং পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। সম্প্রচার সহযোগী চ্যানেল আই, মেডিক্যাল পার্টনার স্কয়ার হাসপাতাল, ইভেন্ট ব্যবস্থাপক ব্লুজ মিউনিকেশনস এবং আয়োজন সহযোগী ইনডেক্স গ্রুপ, বেঙ্গল ডিজিটাল, বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়।

উৎসবের সার্বিক তথ্য জানাতে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, মহাপরিচালক নুভা নাহিদ চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কমিউনিকেশনস জারা জাবীন মাহবুব।

 


মন্তব্য