kalerkantho


আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ: ছবি নয়, দেখুন বাংলাদেশ’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:২৯



আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ: ছবি নয়, দেখুন বাংলাদেশ’

‘বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ: ছবি নয়, দেখুন বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি ব্যতিক্রম ধর্মী আলোক চিত্র প্রদর্শনী ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর বিকেল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রদর্শিত হত্বে যাচ্ছে ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে। প্রদর্শনীটির উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে জনপ্রিয় কার্টুন ম্যাগাজিন উন্মাদ এবং ভ্রমণ ম্যাগাজিন ট্রাভেল এন্ড ফ্যাশন।

প্রদর্শনীতে ফটোগ্রাফার হিসাবে রয়েছেন আনিসুল কবীর এবং অপু নজরুল।

বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। ক্ষুদ্রাকৃতির এই দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন ধরনের উপাদান ছড়িয়ে রয়েছে। এই অঞ্চলের ইতিহাস হাজার বছর পুরোনো। বাংলাদেশের অনেক জেলায় রয়েছে অসংখ্য পুরাকৃতিক নিদর্শন। এছাড়াও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বা গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষনীয় ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন করতে পারে। বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। পৃথিবীর কোনও দেশেই এত কম জায়গায় এতো গুলো নদী দেখা যায়না। নদ-নদী, বিল-হাওড়-বাওড় সহ বিভিন্ন ধরনের জলাভুমিতে রয়েছে ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য।

এছাড়াও প্রতিটি বিভাগ বা জেলায় রয়েছে বিখ্যাত সব মনিষীদের স্মৃতি বিজরীত দর্শনীয় স্থান।

বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের অসংখ্য আকর্ষনীয় স্থান থাকা সত্বেও বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প মূলত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট এবং সুন্দরবন কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ আরও কিছু অঞ্চলে পর্যটকরা খুব একটা ভ্রমণ করেনা। যদিও উত্তরাঞ্চলসহ অনেক জেলাতেই রয়েছে ভ্রমণের জন্য আকর্ষনীয় হতে পারে এমন দ্রষ্টব্য স্থান এবং স্থাপনা। রাজধানী ঢাকার আশে পাশেও রয়েছে অনেক সুন্দর জায়গা। সময়ের স্বল্পতার দরুণ কিংবা অল্প খরচে স্বল্প দুরত্বের সেসব জায়গা ভ্রমণ করে ভ্রমণ প্রেমীরা পেতে পারেন বিমলানন্দ। এতে দেশের আনাচে কানাচে পর্যটন শিল্প বিস্তার লাভ করবে এবং সাথে সাথে মানুষের জন্য নতুন নতুন পর্যটন এলাকা উন্মোচিত হবে।

ফটোগ্রাফারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রদর্শনীর মুল উদ্দেশ্য দর্শকদের সুন্দর ফটোগ্রাফি দেখিয়ে মুগ্ধ করা নয়, বরং নতুন সব আকর্ষণীয় জায়গার ছবি দেখিয়ে সেসব জায়গা গুলোকে দর্শকদের কাছে পরিচিত করার কথা চিন্তা করা হয়েছে। কক্সবাজার বা সেন্ট মার্টিন সহ কিছু যায়গা অতিরিক্ত পর্যটকের আগমনে প্রাকৃতিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলছে, সাথে সাথে পর্যটকরা নতুন জায়গার অভাবে ধীরে ধীরে বিদেশ ভ্রমণের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে বাংলাদেশ হারাচ্ছে মুল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।  

প্রদর্শনীর আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি সাধারন মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। কোনও স্থান ভ্রমণকালে যেন ভ্রমণকারী ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টের প্রতি যত্নবান থাকেন যে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে তথ্য প্রদানের চেষ্টা করা হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পর্যটন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী, অনলাইন ট্যুর কমিউনিটির সদস্যগন, উন্মাদ ম্যাগাজিনের ফ্যান, অন্যান্য ভ্রমণকারী সংগঠন ও বিভিন্ন বয়সী সাধারণ দর্শক এই প্রদর্শনীটি উপভোগ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পর্যটন ও উন্মাদ
উন্মাদ ম্যাগাজিন সব বয়সের মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়। উন্মাদ সব সময় সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরার চেষ্টারত। বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নে উন্মাদ টিম সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ন বিভিন্ন ইস্যু নিয়েই কাজ করতে উন্মাদ ম্যাগাজিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ইতিমধ্যে পরিবেশ বিষয়ে দুটি প্রদর্শনী করে তরুণদের মধ্যে প্রভূত সাড়া পাওয়া গিয়েছে। তাই ভ্রমণ ও পর্যটনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে উন্মাদের এই আয়োজন বাংলাদেশের তরুণদের নিজ দেশের নতুন নতুন স্থান ভ্রমণে উৎসাহ যোগাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।    

বিশেষ আয়োজন
এই প্রদর্শনীর তিন দিন চিত্র প্রদর্শনীর সাথে সাথে ‘হিউম্যান লাইব্রেরি’র আয়োজন থাকবে। হিউম্যান লাইব্রেরি একটি নতুন ধারণা যেখানে কোনও একটি বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ উনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। উপস্থিত দর্শকরা সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞকে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। এই প্রদর্শনীতে ৩ দিনে ছয়টি সেশন আয়োজন করা হবে, যেখানে ট্যুরিজম, ট্রাভেরিং, মাউন্টেনিয়ারিং, সাইক্লিং, কনজারভেশন ও এনভায়রনমেন্ট নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কথা বলবেন।

উদ্বোধন কালে উপস্থিত থাকবেন, ডঃ এএইচএম. আব্দুল বাকী ও উন্মাদের সম্পাদক, কার্টুনিস্ট ও লেখক আহসান হাবীব। এছাড়াও ঢাকা ইউনিভার্সিটির ট্যুরিজম বিভাগের শিক্ষকগণসহ অনেক গণমান্য ব্যক্তি এবং ভ্রমণকারীগণ উপস্থিত থাকবেন।


মন্তব্য