kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মরমী কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২০



মরমী কণ্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের অমর লোকসংগীতশিল্পী আবদুল আলীমের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আবদুল আলীম সংগীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন যেখানে জীবন জগৎ ও বাউল ভাবধারা একাকার হয়ে গিয়েছিল।

১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান আলীম বাল্যকাল থেকেই সংগীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন। এভাবেই তিনি নজরে আসেন ওস্তাদ সৈয়দ গোলাম আলীর। শুরু হয় সাধনা। ১৯৪৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর গানের প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত গান দুটি হলো 'তোর মোস্তফাকে দে না মাগো' ও 'আফতাব আলী বসলো পথে'।

এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতায় যান এবং সেখানে আব্বাসউদ্দিন ও কাজী নজরুল ইসলামের সাথে গান গাওয়ার সুযোগ পান। ওস্তাদ বেদার উদ্দিন আহমেদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ, কানাই লাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরী প্রমুখের কাছে লোক ও শাস্ত্রীয় সংগীতের ওপর দীক্ষা নিয়েছেন। বেশ কিছুদিন তিনি লেটো দলে ও যাত্রা দলেও গান গেয়েছেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন ও রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সংগীত পরিবেশন শুরু করেন। এ ছাড়াও তৎকালীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র 'মুখ ও মুখোশ' সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে আব্দুল আলীম গান করেছেন। পেশাগত জীবনে আবদুল আলীম ছিলেন ঢাকা সংগীত কলেজের লোকগীতি বিভাগের অধ্যাপক।

সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তাঁর। আবদুল আলীমের কিছু অবিস্মরণীয় গান হলো সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখী, নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা, মেঘনার কূলে ঘর বাঁধিলাম, এই যে দুনিয়া, দোল দোল দুলনি, দুয়ারে আইসাছে পালকি, কেন বা তারে সঁপে দিলাম দেহ মন প্রাণ, মনে বড় আশা ছিল যাবো মদীনায় ইত্যাদি।

আব্দুল আলীম বেশ কয়েকটি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে একুশে পদক, পূর্বাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার। পাকিস্তান মিউজিক কনফারেন্স, লাহোরে সংগীত পরিবেশন করে আব্দুল আলীম পাঁচটি স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে সম্মানিত করে।


মন্তব্য