kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ মার্চ, ২০১৬ ১৬:২৯



‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’

বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে দেওয়ান লালন আহমেদের ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’। বইটি  প্রকাশ করেছে প্রকাশনী- দাঁড়কাক, প্রকাশক- সঞ্জীব পুরোহিত।


তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু তাই বলে তো থেমে নেই মুক্তিযুদ্ধ দর্শন! শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। আছে চলচ্চিত্র, নাটকে মুক্তিযুদ্ধের অমর কাহিনী। গল্প-উপন্যাসেও ঘটেছে এর বিস্তৃতি। কিন্তু একথা ঠিক যে, মুক্তিযুদ্ধের কলেবর এতো বড় ও মহান, যা কোনো নাটক-সিনেমা, গল্প উপন্যাসের ক্যানভাসে পুরোপুরি ধারণ করা সম্ভব। তাই এর নানা দিক ও বিষয় নিয়ে দীর্ঘ চার দশক জুড়েই চলছে শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি। সেই ধারা অফুরান! এরই ধারাবাহিকতায় দেওয়ান লালন আহমেদ তার বাবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে উপজীব্য করে লিখেছেন, ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’।
দেওয়ান লালন বলেন , সবার জীবনেই বাবা একটি পরম নির্ভরতার নাম, আমার বাবার মত এমন লাখো লাখো বাবার লাখো সন্তান আছে, আমরা সবাই কি যার যার বাবার কথা ভাবি? হয়ত ভাবি, হয়ত ভাবি না। আমার সমগ্র জীবনধারায় বাবার যে অবদান তার কোন প্রতিদান বা শোধ হয় না, এই বইটির মাধ্যমে অল্প বিস্তর চেষ্টা করেছি নিজের ভিতরে থাকা বাবার প্রতি ঋণের বোঝা কিঞ্চিত লাঘব করতে যেখানে ভিত্তি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। একজন বীর-মুক্তিযোদ্ধা, একজন ন্যায়পরায়ণ দয়াবান বাবা যিনি সারাটি জীবন সাদামন ধারণ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এমন অনেক বাবা আছেন যাদের অবদান যাদের ত্যাগ তিতিক্ষা কেউ জানে না, হয়ত ইতিহাসে তাদের নাম থাকবে না কিন্তু এমন লোকের সংখ্যায় বেশি। কুলি, মুটে, মজুর, থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আমলা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার লড়াই-এ, আর তা নিজ নিজ স্থান থেকে আমাদের প্রত্যেকের উচিত শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মকে তা উপলব্ধি করান। হয়ত বাবা বেঁচে থাকলে আরো গুছিয়ে আরো তথ্যবহুল আরো ঘটনাবহুল কিছু যোগ করতে পারতাম । ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’ বইটিতে আমি চেষ্টা করেছি বাবার কাছে শুনা ঘটনা গুলিকে উল্লেখ করে সেই সময়ের সেই এলাকাগুলোর মুক্তিযুদ্ধের তথ্যগুলোর সঙ্গে যোগসূত্র আনতে। যে সেক্টরের অধীনে যে সাবসেক্টরে বাবা ছিলেন সেগুলির কাঠামো, কর্মপরিকল্পনা, জনবল, বিন্যাস, এরিয়া, যুদ্ধ কৌশল ও অর্জনসহ সেক্টর কমান্ডারের মহান কীর্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে তার জীবনীকে উল্লেখ করে জাতির কাছে তাঁর অবদানকে কিঞ্চিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । এছাড়া সাদামনের মানুষ হিসেবে বাবার সঙ্গে আমার জীবনধারায় তার প্রভাব ও প্রকৃত মানুষ করে তোলার ক্ষেত্রে তার দর্শন তুলে ধরেছি।


মন্তব্য