kalerkantho

কেউ শুনছে না ইছামতির কান্না

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেউ শুনছে না ইছামতির কান্না

কে বলবে এখানে একসময় খরস্রোতা ইছামতি নদী ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনে স্বকীয়তা হারিয়েছে একদা যৌবনদীপ্ত ইছামতি। তার বুকে জেগে উঠেছে চর। সেখানে এখন ফসল ফলান স্থানীয় কৃষকেরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

'আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে...। 

কবিগুরু রবীদ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার বাস্তবতা ইছামতিকে ঘিরে বর্তমান সময়ে ভিন্ন। প্রকৃতিতে এখন বৈশাখ মাস। নদীতে হাঁটুজল দূরের কথা, কোথাও পানি নেই। কূল আছে, কিনারা আছে। নেই শুধু সেই উত্তাল ঢেউ। একসময়ের যৌবনদীপ্ত নদী এখন পানিশূন্য। পানি শুকিয়ে পরিণত হয়েছে মরা খালে। বুকজুড়ে জেগে উঠেছে চর। সেখানে চাষ হচ্ছে নানা জাতের ফসল। দেখে বোঝাই যায় না, এখানে একসময় পানির প্রবাহ ছিল। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলা শহরের পাশ দিয়ে বহমান ইছামতি নদীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নদী ইছামতি। উত্তর সীমান্ত থেকে উপজেলা সদর হয়ে দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত রয়েছে এর বিস্তৃতি। একসময়ের খরস্রোতা ইছামতি ছিল নদীপথে অন্যতম যোগাযোগমাধ্যম। উপজেলা সদরের নদীঘাট থেকে উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের নৌকাযোগে চলাচলের প্রচলন ছিল। কিন্তু প্রায় দুই যুগ হলো নদীপথে চলাচলের প্রচলন আর নেই। 

কালের বিবর্তে যৌবন হারিয়েছে ইছামতি। নদী খনন ও সংরক্ষণে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। দীর্ঘ নদীর কোথাও সামান্য পানি থাকলেও নাব্যতা হারিয়ে অন্য জায়গায় পানি নেই। নদীর বুকে কৃষক মৌসুমী ফসলের চাষাবাদ করছে। বিশেষ করে কৃষককে ধান ও ভুট্টা চাষ করতে দেখা গেছে। কৃষকের ধান ক্ষেতের সবুজ পাতার ঢেউয়ের সাথে একাকার হয়ে গেছে ইছামতির কান্না।

ইছামতি নদীর তীরবর্তী চকডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, একসময় ইছামতি নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকত। কিন্তু অনেক দিন আগে থেকে ইছামতি নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুমে অথবা বন্যার সময় নদীতে পানি থাকে। কিন্তু বছরের অন্য সময় নদী থাকে প্রায় শুকনো। এ সময় কৃষক নদীর বুকে ধান, ভুট্টাসহ নানা জাতের ফসল চাষাবাদ করে। 

এ বিষয়ে কলাম লেখক রেজাউল হক মিন্টু বলেন, দখল-দূষণে প্রাণের ইছামতি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অথচ একটা সময় কতই-না সুবিধা নিয়েছি এই ইছামতি নদী থেকে। এই নদীর কলকলধ্বনি ও নৈসর্গিক সৌন্দর্যে বিমোহিত হতো সহস্র মানুষের হৃদয় ও মন। তাই সরকারি উদ্যোগে ড্রেজার দিয়ে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি করা হলে নদী পারের মানুষগুলো সারাবছরই পানি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। থাকবে নদী ভরা মাছ, জেলেরা পাবে জীবিকা নির্বাহের সহজ উপায়।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অধিকাংশ নদী স্বকীয়তা হারিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকলেও অধিকাংশ সময় ইছামতি নদীতে পানি থাকে না। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নদীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই ইছামতির নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য