kalerkantho

প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, চালক আটক

চান্দিনায় ট্রাক্টরচাপায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ১২:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চান্দিনায় ট্রাক্টরচাপায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনায় গ্যাসলাইন নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরচাপায় মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টায় চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাক্টরচালক মনোয়ার হোসেন (১৮)-কে আটক করে স্থানীয়রা। 

নিহত স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মনির হোসেন এর মেয়ে। সে কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির হোসেন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সামনের কাঁচা সড়ক দিয়ে গ্যাসলাইন নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচল করে। ২৬ মার্চ উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আমি দাঁড়ানো ছিলাম আর ছাত্রীগুলো বিদ্যালয়ের দিকে আসছিল। ১৭-১৮ বছরের একটি ট্রাক্টর চালক মেয়েগুলোকে দেখে জোরে হর্ন চেপে ট্রাক্টরটি রাস্তায় এদিক-সেদিক ঘুরাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক্টরের সাথে ধাক্কা লেগে একজন পানিতে পড়ে যায় আরেকজন চাকায় পিষ্ট হয়। 

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাশের মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের প্রহার করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ইয়াছিন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তার মাথায় পেছনের অংশ ফেটে গেলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

আহত শিক্ষার্থী ইয়াছিন জানায়, গ্যাস কম্পানির মতো দায়িত্বশীল একটি প্রতিষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্ক ট্রাক্টরচালককের চাকরি দেওয়ার প্রতিবাদে এবং চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নেই। এ সময় পুলিশ এসে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে পুলিশের এক সদস্য লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। 

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে হয়নি। আঞ্চলিক সড়কে হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা এসে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সরে যেতে অনেকবার বলা হলেও তারা কথা শোনেনি। এখানে হাইওয়ে ও থানা পুলিশ ছিল। পুলিশের কোনো সদস্য এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। 

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি। গাড়ি ও চালক আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জাকারিয়া। 

মন্তব্য