kalerkantho

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

বাসের চাকায় ওয়াসিমের পিষ্ট হওয়ার আগমুহূর্ত...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৭:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাসের চাকায় ওয়াসিমের পিষ্ট হওয়ার আগমুহূর্ত...

রাজধানীতে আবরার হত্যার প্রতিবাদে চলমান নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মাঝেই সিলেটে বাসের চালক ও চালকের সহযোগীর কটুক্তির প্রতিবাদ জানাতে গেলে একপর্যায়ে হেলপারের ধাক্কায় বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওয়াসিম। আহত হন রাকিব হাসান নামের আরেক ছাত্র। বাসের চাকায় পিষ্ট হওয়ার আগে ঠিক কী ঘটেছিল বাস হেলপার এবং ওয়াসিমদের মধ্যে।

আহত হওয়া রাকিব হাসান জানান, এক বন্ধুর আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ-সরিষাবাড়ী-সিলেট রুটের একটি বাসে মৌলভীবাজারের শেরপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১জন শিক্ষার্থী। তার ভাষায়, 'যাত্রার শুরুতেই বাসের হেলপারের সাথে ভাড়া নিয়ে কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয় আমাদের।'

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদের একজন নয়ন রঞ্জন ঘোষ জানান, 'শুরুতে আমরা সিলেট পর্যন্ত যাওয়ার জন্য তাকে (হেলপারকে) যত টাকা ভাড়া দিয়েছিলাম, তাতে সে রাজি হয়নি। পরে মৌলভীবাজারের শেরপুরে আমাদের নামিয়ে দিতে রাজী হয় তারা।'

তবে বাসভাড়াকে কেন্দ্র করে বাসের হেলপার বা চালকের সাথে ছাত্রদের কেউই কথা কাটাকাটি বা বেশি বাক-বিতণ্ডায় জড়াননি বলে দাবি করেন নয়ন রঞ্জন ঘোষ ও রাকিব হাসান। এরপর মৌলভীবাজারের শেরপুরে পৌঁছানোর পর তারা ১১ জনই বাস থেকে নেমে পড়েন। হাসান বলেন, বাস থেকে নামার পর হেলপার ও সুপারভাইজার তাদের উদ্দেশ্য করে কটুক্তি করে। সেসময় বাসটি থেমে ছিল।

তার ভাষায়, 'বাস থেকে নামার পর আমরা শুনি হেলপার ও সুপারভাইজাররা বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করছে আমাদের বিষয়ে। বাসে ওঠার যোগ্যতা নেই, কম ভাড়া দেয় - এরকম মন্তব্য শোনার পর প্রতিবাদ করতে আবারো বাসে উঠতে যাই আমি ও ওয়াসিম। প্রতিবাদ করতে বাসের গেটে ওঠার পরই চালক বলে 'এদেরকে বাঁধ', এবং বলার পর বাসের গতিও আস্তে আস্তে বাড়াতে থাকে।'

এরপর আসে ভয়ংকর সেই মুহূর্ত! হাসানের জবানিতে, 'এরপর ভেতর থেকে আমাদের ধাক্কা দেয়া হয়। দু'জনকে আলাদাভাবে ধাক্কা দেয়া হয়েছে, নাকি একসাথে ধাক্কা দেয়া হয়েছে তা দেখতে পাইনি। আমি পড়ে যাওয়ার পর এক-দেড়হাত সামনেই ওয়াসিমকে চাকার নিচে চাপা পড়তে দেখি।'

বাসের বাইরে থাকা নয়ন রঞ্জন ঘোষ বলেন, দু'জন পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে বাস হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, 'তবু ছেলেটা (ওয়াসিম) হয়তো বাঁচত, কিন্তু বাস ওয়াসিমকে নিয়ে স্পিড বাড়িয়ে টার্ন নেয়ায় বাসের পেছনের চাকার নিচে পড়ে সে।'

এরপর আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে আরেকটি গাড়িতে করে বাসের পেছনে যান তারা। রাস্তায় এক জায়গায় বাসটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। মৌলভীবাজার সদর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান বাসের চালক ও সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

মন্তব্য