kalerkantho

দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ

হোমনায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

২৩ মার্চ, ২০১৯ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হোমনায় মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার হোমনায় উপজেলা দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মিরাজ বাজারে হামলায় কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও ৬ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, প্রবাসী ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রসহ ২৮ জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার উপজেলা মিরাজ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ ৪র্থ ধাপে নির্বাচনকে সামনে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মহসিন সরকার ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান টিটু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিরাজ বাজারের মহসিনের সমর্থক প্রচারণার জন্য আসেন। ওপারচর গ্রাম থেকে প্রচারণায় আসা মহসিনের সমর্থক আক্তার হোসেন, আমির ও জাহাঙ্গীরে নেতৃতে ৩০/৪০ জন কর্মী বাহিনী নিয়ে আসেন। বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকার লোকজনকে তাদের সাথে প্রচারণার জন্য জোর করে নিতে চাইলে টিটুর সমর্থকরা তাদের সাথে যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বাঁধে। এ সময় মহসিনের সমর্থক কর্মী বাহিনী বাজারে কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুট-পাটের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষে ব্যবসায়ীসহ অওয়ামী লীগের ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতেদেকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বুধবার রাতে মহসিনের সমর্থক লাখ মিয়া বাদী হয়ে হোমনা থানায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্র এবং প্রবাসীসহ ২৮ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ব্যবসায়ীদের দোকান ভাঙচুর ও লুট হওয়া ঘটনায় ব্যবসায়ীরা মামলা করতে চাইলে ওসি মামলা না নেয়নি বলে অভিযোগ করেন। তাদের মামলা নেওয়ার দাবিতে বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

এ ব্যাপারে নিখলী ইউনিয়নের সহসভাপতি মো. জয়নাল হাজারী বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দুজনই আওয়ামী লীগের হওয়ার পরও উপারচর গ্রাম থেকে আক্তার, আমির ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ৩০/৪০জন লোক লোহার রড ও পাইপ দিয়ে বাজারের অতর্কিত হামলা চালিয়ে কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুট-পাট করে নিয়ে যায়। তাদের হামলায় ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবার মহসিনের লোকজন মিথ্যা মামলা দিয়ে নিলখি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং সদ্য প্রবাস থেকে আসা রাসেল বাজারে বিয়ের সদাই করতে আসা তাকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। আমরা এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আমারে দোকান-পাট ভাঙচুরের ঘটনার আইনি সহযোগিতা কামনা করছি।

হোমনা থানা ওসি ফজলে রাব্বি বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় লাখ মিয়া বাদী হয়ে ২৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা ধায়ের করা হয়েছে। যদি কোনো নিরাপরাধ লোক থাকে তদন্ত পূর্বক তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। যে আইনের সহযোগিতা চায় তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য